এরশাদের ৪৩টি মামলা থেকে রইল বাকি ২

ডেস্ক: রাডার ক্রয়ের দুর্নীতি মামলায় খালাস পাওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে আদালতে ঝুলে আছে আরো দুইটি মামলা। ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগে ৪৩টি মামলা দেওয়া হয়। গতকালের রাডার মামলার রায় নিয়ে মোট ৪১ মামলা থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেলেন এরশাদ।

তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বর্ণ মামলা, টিএন্ডটি মামলা, থ্রি স্টার পোল্ট্রি ফার্ম, আয়কর, জাহাজ ক্রয়, রোড ইমালশান, রাজউকের প্লট বরাদ্দ, হরিপুরে তেল অনুসন্ধান, জনতা টাওয়ার, জাপানি বোট ক্রয়, মঞ্জুর হত্যা, রাডার ক্রয় প্রভৃতি। এর মধ্যে কোনো কোনো মামলায় বেকসুর খালাসও পেয়েছেন। কোনো মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের রিটের কারণে স্থগিত রয়েছে ১টি মামলা। ২টি মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। অবৈধভাবে দেশের বাইরে থেকে স্বর্ণ আনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় বেকসুর খালাস পান সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের ৮৯টি উপজেলায় এনালগ পদ্ধতি বাতিল করে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে দায়ের করা হয়েছিল টিএন্ডটি মামলা। এ মামলাটিতেও এরশাদ বেকসুর খালাস পান। বেকসুর খালাস পাওয়া অন্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে থ্রি স্টার পোল্ট্রি ফার্ম মামলা, আয়কর মামলা, রোড ইমালশান মামলা, রাজউকের প্লট বরাদ্দ মামলা প্রভৃতি। শিল্প ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল থ্রি স্টার পোল্ট্রি ফার্ম। এছাড়া জনতা টাওয়ার ও জাপানি বোট ক্রয় মামলায় ইতোমধ্যে ৩ বছর সাজাও খেটেছেন।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা চলছে। একটি মেজর মঞ্জুর হত্যা মামলা ও অপরটি হলো বিভিন্ন উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেওয়ার মামলা।

বিভিন্ন উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেওয়ার মামলায় তিন বছরের সাজার বিরুদ্ধে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ৯ মে আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

বর্তমানে মেজর মঞ্জুর হত্যা মামলাটি সাবেক এই প্রেসিডেন্টের গলার কাঁটা হয়ে আটকে আছে। বর্তমানে এই মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে নিয়ে এসে পুনঃতদন্ত চলছে।

৩৬ বছর ধরে ঝুলে আছে এ মামলাটি। বিচার চলাকালে পর্যায়ক্রমে ২২ জন বিচারক বিচারিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। ২২ বিচারকই বিভিন্ন কারণে বদলি হন।

২০১৪ সালে প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রচি মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। তিনি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে বলেন, এ মামলায় সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। ফলে আরও অনেককে সাক্ষী করা যায়নি। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য মামলাটি অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।

আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

মামলার প্রধান আসামি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসের।

আলোচিত এ মামলাটি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এরশাদ মুক্ত হতে পারছেন না এবং কঠিন কোনো সিদ্ধান্তও গ্রহণ করতে পারছেন না। অনেকে আশঙ্কা করছেন এ মুহূর্তে মহাজোট ছেড়ে এলে প্রক্রিয়াধীন থাকা মামলা দুটি প্রত্যাহার না-ও হতে পারে। বিচারাধীন এ মামলাটিতে রয়েছে সাজা পাওয়ার আশঙ্কা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রচি বলেন, মামলাটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বাকি থাকায় পুনরায় আবেদন করলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত সংস্থার উচিত মামলাটির চার্জশিট খুব দ্রুত দেওয়া।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় এরশাদ সম্পূর্ণ নির্দোষ। মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। তাকে রাজনৈতিক হয়রানির জন্য আসামি করা হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত এ মামলাটি নিষ্পত্তি হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: