ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটান থেকে দেশে ফিরেছেন । তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ড্রুক এয়ারের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং থিম্পুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যিষ্ণু রায় চৌধুরী পারো বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী অটিজমবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং থিম্পুর হেজোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।

গত মঙ্গলবার শেখ হাসিনা ভুটান পৌঁছান। দেশটির পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবধর্না এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ওই দিনই রাজকীয় প্যালেসে শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেওয়া হয়। সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিল ও রানি জেটসান পেমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজতে রাতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা ও শেরিং তোবগের মধ্যে বৈঠকে দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বাংলাদেশের নৌপথ ভুটানকে ব্যবহার করতে দেওয়া, কৃষি, সংস্কৃতি ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করে প্রতিবেশী দুই দেশ। এ ছাড়া, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে ভুটানের সমর্থনও চান। জলবিদ্যুতে সহযোগিতা নিয়েও তাদের আলোচনা হয়েছে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একটি তহবিল গড়ার কাজে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাইলে শেখ হাসিনা তাকে সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভুটানে চিকিৎসক নেওয়া এবং বাংলাদেশে ভুটানের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে।

বুধবার সকালে থিম্পুর রয়্যাল ব্যাঙ্কোয়েট হলে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। বিকেলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ‘অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্ট সমস্যার যথাযথ সমাধানে সক্ষমতা অর্জন’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। ওই আলোচনায় সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, যিনি বাংলাদেশের জাতীয় অটিজমবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: