মেয়র নাছির বললেন- জলাবদ্ধতা উত্তরাধিকার সূত্রে আমি পেয়েছি

প্রতিবেদক:  মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, জলাবদ্ধতা উত্তরাধিকার সূত্রে আমি পেয়েছি। তবে আমি চেষ্টা করছি যাতে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া যায়। তবে এটি ছোটখাটো বিষয় নয়। এর জন্য আমি কমপ্রিহেনসিভ (সমন্বিত) পরিকল্পনা নিয়েছি। ওয়াল্র্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়টি এ মাসে চূড়ান্ত হবে। অতিবর্ষণের সময় জলজট সৃষ্টি হচ্ছে নগরীতে। নগরীর খালগুলোর মুখে পাম্প হাউসসহ স্লুইসগেট স্থাপন প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একনেকে অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও কর্ণফুলীর ভরা জোয়ারের কারণে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর অসুবিধা হওয়ায় ‘আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ’ করেন তিনি।

শুক্রবার (২১ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টায় সরেজমিন আগ্রাবাদ, সিমেন্ট ক্রসিং ও ১৫ নম্বর ঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে  দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি জানান।

মেয়র বলেন, অতিবর্ষণ ও কর্ণফুলীর ভরা জোয়ারের কারণে পানি নামতে পারেনি। সকাল সাতটা থেকে নয়টার সময় যখন বৃষ্টি হয় তখন জোয়ারের কারণে পানি নামতে পারেনি। এরপর যখন ভাটা শুরু হয় তখনো বৃষ্টি পড়ছিল। তবে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার পানি নেমে গেছে। ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে এ নগরের যে খাল-নালা বিদ্যমান আছে তার জন্য সহনীয়। সে তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে আজ।

তিনি বলেন, সকালে ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর পরপরই চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তারা রাস্তা থেকে পানি নামার পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

দেশের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে চট্টগ্রাম ব্যতিক্রম উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এ নগরে ৩৪টি ছোট-বড় খাল আছে। অনেক খাল বেদখল হয়ে গেছে। কিছু খাল নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। অনেক নালা দখল করে ফেল‍া হয়েছে। এসব বৃষ্টির পানি নামতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং হলো না। পাহাড় থেকে বালু নামছে। মাস্টারপ্ল্যানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিছুই বাস্তবায়ন হলো না। আজ যদি মাস্টারপ্ল্যান মানা হতো তবে জলাবদ্ধতা হতো না। অন্তত প্রকট আকার ধারণ করতো না।

জলাবদ্ধতা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে নিম্নআয়ের লোকজনকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, এটা মানবিক দায়িত্ব। ইতিমধ্যে যেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, মানবতা বিপন্ন হয়েছে সেখানেই আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি। এক্ষেত্রেও অসহনীয় পরিস্থিতি হলে অবশ্যই আমরা পাশে দাঁড়াবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: