টুঙ্গিপাড়ায় এক পরিবারের বাড়ীঘর ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা

এম আরমান খান জয়.গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ীঘর ও পারিবারিক মন্দির ভেঙ্গে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা।

শনিবার রাতে এলাকাবাসী ও সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পাটগাতী বাজার সংলগ্ন এলাকার মৃত পঞ্চানন সাহার ছেলে তপন সাহা স্থানীয় কামাল সরদারের কাছ থেকে আড়াই কাঠা জমি ক্রয় করে দীর্ঘ দিন যাবত বসবাস করে আসছে। শনিবার সন্ধায় স্থানীয় মৃত রুঙ্গু খলিফার ছেলে মুকুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তপন সাহার বাড়ীতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে বাড়ীঘর, পারিবারিক মন্দির ভাংচুর করে এবং বাড়ীতে থাকা তপন সাহার স্ত্রী কৃষ্ণা রানী সাহাকে বেধড়ক মারপিট করে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় আশপাশের লোকজন ঠেকাতে আসলে তাদেরকেও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা তপন সাহার বাড়ীঘর, পারিবারিক মন্দির, ঘরের আসবাপত্রসহ সকল মালামাল ভেঙ্গে পার্শবর্তী খালের ভেতর ফেলে দেয়।

এলাকাবাসী আরো জানায়, স্থানীয় রুঙ্গু খলিফার ছেলে মুকুল, ইয়াছিন, পান্না, নুরু মিয়া রাজাকারের ছেলে মাহমুদ মিয়া, মাহমুদ মিয়ার ছেলে মিশু মিয়া, শাহজাহান শেখের ছেলে তাইজুল শেখ, রশিদ খলিফার ছেলে সাচ্চু শেখ, শাহজাহান মিস্ত্রিরির ছেলে ওসমান মিস্ত্রি, খোকা মিয়া শেখের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়াছিন শেখসহ প্রায় ৪০/৫০ জন লোক এ হামলায় অংশ নেয়। ভাংচুর করার সময় সন্ত্রাসীরা এ সময় উল্লাস করতে থাকে।

সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ীঘর ও পারিবারিক মন্দির ভাংচুরের খবর পেয়ে রাতেই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান সরকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম এনামুল কবির ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমান সরকার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় দোষী ব্যাক্তিদের গ্রেফতার পুর্বক আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে বলে জানান।

রাতে ওই পরিবারের থাকা ও খাওয়ার জন্য টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা তাবু ও খাবার সরবরাহ করেন। এছাড়াও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের বাড়ী করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এ ব্যাপারে তপন সাহার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি কয়েক বার জোর পুর্বক দখল করার চেষ্টা করেন টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মৃত রুঙ্গু খলিফার ছেলে মুকুল। আমি তাদেরকে বারবার অনুরোধ করি যে আমার শেষ সম্বল টুকু তোমরা কেড়ে নিও না। আমি শনিবার হাটে ডিম বিক্রি করতে গেলে তারা আমার বাড়ীঘরে আক্রমন চালিয়ে আমার ঘরবাড়ী ও পারিবারিক মন্দিরটি ভেঙ্গে পার্শবর্তী খালে ফেলে দেয় এবং আমার স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি ওই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে তপন সাহার স্ত্রী কৃষ্ণা সাহার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ও আমার স্বামী তিনটি ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করি। আমার এই সামান্য জমি টুকু নেওয়ার জন্য  মৃত রুঙ্গু খলিফার ছেলে মুকুল বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। শনিবার সন্ধায় মুকুলের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার বাড়ীতে সব ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমন চালায় সে সময় আমি একা বাড়ীতে ছিলাম। তারা আমার বসতবাড়ী, পারিবারিক মন্দিরসহ আমার যাবতীয় মালামাল ভেঙ্গে পাশের খালে ফেলে দেয়। আমি এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে মারপিট করে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দেয়। আমাকে বাচাতে ও ভাংচুর ঠেকাতে আশপাশের কয়েকজন লোকজন আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের ধাওয়া দেয়। আমি ওই সকল সন্ত্রাসীর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম এনামুল কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দোষী ব্যক্তিরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। তিনি আরো বলেন আমরা রাতেই ওই দলের রুঙ্গু খলিফার ছেলে ইয়াছিন খলিফা নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছি। অন্যান্যেদের কে গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: