বাজারে আসছে শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রাথমিক শিক্ষা সহায়ক ২য় বইটি

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ পৃথিবীতে কিছু মানুষ ফুলের মতো বাঁচতে চায়, সারা জীবনেই অন্যকে সুবাস দেবে। সুগন্ধি ঘ্রানে মাতিয়ে রাখবে জগত। নয়তো বাঁচতে চায় সেসব মানুষ মোমের মতো। নিজে জ্বলে জ্বলে নিঃশেষ হওয়া পর্যন্তও অন্যকে আলো দেবে। মহান এসব মানুষের আত্বা শান্তি পায় ত্যাগের মাধ্যমে। তেমনি একজন সৃষ্টিশীল মহৎ মানুষ কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। যার ত্যাগ প্রাথমিক স্তরের শিশু কিশোর আর বালক বালিকাদের জন্য। সারা দিন যিনি অফিসে কর্ম পাগল ব্যস্ত মানুষ। তারপরেও কাজের ফাকে সময় বের করে শিশুদের জন্য চিন্তা মগ্ন হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সহায়ক বই রচনা করেন। অন্ধকার জগত হতে বদলে দিতে চান সমাজ আর কিছু মানুষের আজম্ম ধারণা । মানুষ হিসাবে আজকের শিশুদের তিনি তৈরি করতে চান,আগামী পৃথিবীর জন্য মাননসই একটা স্বনির্ভর জাতি। কথা সাহিত্যিক মহেশখালি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখিত দ্বিতীয় বাংলা বই বাজারে আসছে।

তাঁর প্রথম বাংলা বই ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা: শিক্ষকতায় সৃজনশীলতা’। আর দ্বিতীয় বইটি ইংরেজিতে লেখা। বইটির নাম `Primary Education in Bangladesh: Quest for Quality’। নতুন বইটি শীঘ্রই পাওয়া যাবে। ঢাকার প্রান্ত প্রকাশন মোহাম্মদ শহীদুল্লা্হর বইগুলো প্রকাশ করছে। তার দ্বিতীয় বাংলা বইটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। বইটির শিরোনামটি দেখলে বুঝা যায়, এ ধরণের বই খুব কম লেখা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের একেবারে অন্দর মহলের খবর একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়গুলো সহজ-সরস-সুখপাঠ্য ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, এ বইয়ে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাঠ পর্যায়ে অফিসগুলোতে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা হতে বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের কার্যক্রম, সুখ-দু:খ, জীবন-যাপন; সবকিছুর ছোঁয়া বইটিতে চিত্রায়ন করা হয়েছে।

এতে আছে সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য গৃহীত ও বাস্তবায়নাধীন সরকারি কর্মসূচি গুলোর বিবরণ এবং এর সাফল্য-ব্যর্থতার চিত্র সুনিপুণভাবে তুলে ধরার প্রয়াস। আরও আছে, প্রাথমিক শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষা মনোবিজ্ঞানীগণের প্রাথমিক শিক্ষা ভাবনা ও গবেষণার কথা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শিখন-শেখানোর কলা-কৌশল, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ভাবনা এবং শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার কথাও এতে স্থান পেয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আলেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ক বিস্তারিত বিবরণও এতে তুলে ধরা হয়েছে। পাঠক মহলে লেখকের বইগুলো বেশ সাড়া জাগিয়েছে, ইতোমধ্যে। নতুন বইটি বিপুল জনপ্রিয়তা পাবে বলে লেখকের একান্ত বিশ্বাস। নতুন বইয়ে সংকলিত লেখাগুলোর শিরোনামের দিকে এক পলক দৃষ্টি দিলে, বুঝা যাবে এটি প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ। যেমন-লোকপ্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনে চেইন-অব-কমান্ড নীতি, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণের পদমর্যাদা, প্রাথমিক শিক্ষাক্রম ও শিক্ষক যোগ্যতা, বহুমুখি শিখন-শেখানো পদ্ধতি, যোগ্যতা ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষাক্রম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষ হত্যাকান্ডে/২০০৯ শহীদ হওয়া লে: ক: আবু মুসা মো: আইয়ুব কাইসারের ভাগ্নি।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে কক্সবাজার সদর আসনের  সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল-এর সহপাঠী ছিলেন। লেখক তিন কন্যা সন্তানের জনক। বইটি পড়ে পাঠক মহল বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার একটি বাস্তব চিত্র জানতে পারবেন। আমাদের দেশের শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী মহল, লেখক-কলামিস্টগণ উচ্চ শিক্ষা নিয়ে যত ভাবেন বা লিখেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তার তুলনায় খুব কম আলোচনা করেন। অনেকে লিখতে চান না বিষয়টি অথচ লেখকের বেলায় উল্টো ।

কারণ লেখক মনপ্রানে বিশ্বাস করেন প্রাথমিক শিক্ষাস্তরই শিক্ষার আসল ভিত্তি ও ভূমি। প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে একেবারে অন্দর মহলের খবর জানতে পারবেন, এ বইয়ের পাঠকগণ। সহজ-সরেস ইংরেজি ভাষায় রচিত বইটির লেখক একজন উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ কর্মকর্তা। তাঁর রয়েছে ১৭ বছর ধরে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তাঁর পর্যবেক্ষণ অতি তীক্ষ্ণতা এবং এতে রয়েছে, পুরোপুরি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার প্রয়াস।

বিশেষত: বাংলেদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে, তার চিত্র লেখক তার মত করে দেখেছেন এবং পাঠক সম্মুখে তা তুলে ধরেছেন ভবিষ্যতে কেমন পরিবর্তন করতে হবে সে বিষয়ও। লেখকের রয়েছে, সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা দিরাই উপজেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী এবং দ্বীপাঞ্চল মহেশখালী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। এসব এলাকার শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের সুফল জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি সদা সচেষ্ট থাকেন। শিক্ষকদেরকে পেশাগতজ্ঞানে সুদক্ষ করে গড়ে তোলা, তা অনুশীলণে নিপুন করে তোলা এবং শিশুদেরকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শন করাতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং তাঁদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে সদা উৎসাহিত করার নিত্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি । দেশ-জাতির প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ-হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষকমন্ডলীকে সব সময় অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ যোগান এ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি নিজে ডিজিটাল অফিসারসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ ও কাজ করে তা প্রমাণ করে চলেছেন মহেশখালিতে নিত্যদিন। তাঁর প্রত্যাশা, তাঁর প্রথম বই ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা: শিক্ষকতায় সৃজনশীলতা’ (বাংলা) এবং দ্বিতীয় বইটি(ইংরেজি) সর্বস্তরের পাঠক মহলের মাঝে সমাদৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বিশেষ অনুরোধ রহিলো বইটি সংগ্রহ করার পাঠক পাঠিকা,শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাবিদসহ যারা পড়িতে পারে সেসব মানুষদের।

বই সংগ্রহ করতে যোগাযোগ-০১৭১৭-১৪৯২৬২/০১৭১২-২৪০১৪৯।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: