ভারতের জম্মু-কাশ্মিরে ক্যামেরা ফেলে আহত ছাত্রীকে বাঁচালেন সাংবাদিক

ডেস্ক: সিরিয়ার বহুল-আলোচিত আলোকচিত্র সাংবাদিক আব্দ আল-কাদের হাবাকের পথ ধরে ক্যামেরা ফেলে আহত ছাত্রীকে বাঁচালেন ভারতের জম্মু-কাশ্মিরে কর্মরত বার্তা সংস্থা এএফপি’র আলোকচিত্র সাংবাদিক দার ইয়াসিন।

বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের নওয়াকাদালে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পথে নেমেছিল এক দল স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। প্রতিবাদ চালাকালে সজোরে একটা পাথর এস আঘাত করে খুশবু জান নামে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর কপালে। সেও ওই প্রতিবাদ মিছিলে শামিল ছিল। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে খুশবু। তার এই অবস্থা দেখে সহপাঠীরা বেশ ভয় পেয়ে যায়। কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। প্রতিবাদ সামলাতে আসা বেশ কিছু পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। সঙ্গে ছিলেন এই খবর কভার করতে আসা গুটিকয়েক সাংবাদিক। যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইয়াসিন।

ওই দৃশ্য চোখে পড়তেই আগুপিছু কেনো কিছু না ভেবে ইয়াসিন দৌড়ে যান খুশবুর কাছে। তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে দৌড়তে থাকেন। কাছেই একটি গাড়ি দেখে তাতে খুশবুকে তুলে সোজা হাসপাতালে পৌঁছেন ইয়াসিন। তিনি যখন খুশবুকে কোলে তুলে নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন, ঘটনাস্থলে থাকা এক তরুণ সাংবাদিক ওই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। ইয়াসিনের এই ছবিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অনেকেই তাকে সিরিয়ার চিত্র সাংবাদিকের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে দিয়েছেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় খবর কভার করতে এসেছিলেন আব্দ আল-কাদের হাবাক। বিস্ফোরণস্থল থেকে দুটো বাচ্চাকে উদ্ধার করেছিলেন তিনি। যদিও এদের মধ্যে একজন বাঁচেনি। একজন পেশাদার সাংবাদিক হলেও হাবাকের কাছে তখন ওই শিশুদের বাঁচানোই প্রধান কাজ মনে হয়েছিল। বাচ্চাটিকে বাঁচাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

খুশবুকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর ইয়াসিন বলেন, ‘মেয়েটির বন্ধুদের বলেছিলাম খুশবুর মতো আমারও দুটো মেয়ে আছে। ও আমার মেয়ের মতোই। কোনো সন্তান যখন যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে একজন বাবা হয়ে কি সেই দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা যায়!’

২০০২ থেকে কাশ্মিরে কাজ করছেন ইয়াসিন। ১৫টি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন কাজের জন্য। তিনি বলেন, ‘এমন একটা কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ছবি তো পরে অনেক করতে পারব। কিন্তু ওই সময় মেয়েটির সাহায্যের প্রয়োজন ছিল।’

যখন তার এই কাজ নিয়ে চার দিকে প্রশংসার ঝড় বয়ে গিয়েছে, খুব শান্তভাবে ইয়াসিন জানান, এটা নতুন নয়, এর আগেও তিনি এমন কাজ করেছেন। -এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: