পাঁচ বার বদলী ঠেকালেন পটিয়া থানার এসআই কুতুব

নিজস্ব সংবাদদাতা,পটিয়া : এসআই কুতুব উদ্দিন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার এক আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ কর্মকর্তার নাম। ২০১২ সাল থেকে একটানা একই থানায় কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার, আটক বাণিজ্য ও চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রীসহ অসংখ্য অভিযোগ ওঠেছে। এই পর্যন্ত পাঁচ বার বদলী হলেও অদৃশ্য কারণে সে পটিয়া থানা ছাড়েনি। অতি সম্প্রতি পঞ্চম বারের মত পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানে তাকে বদলী করা হয়। কিন্তু সেই বদলীও ঠেকিয়ে দিলেন। ফলে প্রশ্ন ওঠেছে তার খুঁটির জোর কোথায়?

দীর্ঘদিন পটিয়া থানায় থাকার কারণে মদ্যপায়ী, মদ ব্যবসায়ী, ইয়াবা ব্যবসায়ী, জুয়াড়ী, ভুমিদস্যু চক্র, মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে। থানার এসআই, এএসআই, কনষ্টেবল ও আনসারদের নিয়ন্ত্রন করেন এই কুতুব। তাকে থানার বড় কুতুব হিসেবে সবাই চেনেন। উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ নেজাম উদ্দিনকে গত বৃহস্পতিবার বিনা কারণে ধরে নিয়ে হাজতে আটকে রাখেন কুতুব। অবশ্যই পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওসি শেখ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ’র নির্দেশে ছেড়ে দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পটিয়া থানায় ২০১২ সালের ৮ নবেম্বর এসআই কুতুব শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার সদর থানায়। শিক্ষানবিশ শেষে প্রমোশন পেয়েও সে পটিয়া থানা ছাড়েনি। ২০১৪ সালে পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের আবু ছিদ্দিকের পুত্র রহিম বাদশাকে থানায় আটক করে। রহিমের প্রতিপক্ষের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে অজ্ঞাতনামা মহিলা হত্যা মামলায় রহিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। মিথ্যা মামলায় জড়িত করায় রহিমের পিতা আবু ছিদ্দিক স্থানীয় এমপির কাছে অভিযোগ করেন। পরে রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান করতে না পারায় তাকে মামলা হতে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। সে সময় রমজানের ঈদের আগে উক্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানোর জন্য এসআই কুতুব আবু ছিদ্দিক থেকে ঘুষ নেয়। কিন্তু সময় মত প্রতিবেদন আদালতে না পাঠানোর কারণে ঈদের আগে রহিম জামিনে বেরুতে পারেনি। ঈদের পর দিন রহিমের পিতা আবু ছিদ্দিক হার্ট স্ট্রোকে মারা যায়। পিতার মৃত্যুর ১৫ দিন পর রহিম কারা মুক্ত হয়। এক দিকে পিতার শোক অপর দিকে পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্নের শিকার রহিম কারা মুক্তি হওয়ার ৩ মাস পর গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

একজন এসআই এক থানায় সর্বোচ্চ দুই বছর থাকার নিয়ম থাকলেও কুতুব একটানা পাঁচ বছর পটিয়া থানায় অবস্থান করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। যা জনমনে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। নিরীহ লোকজন ধরা আর ছাড়া হলো তার প্রধান কাজ। টাকা না পেলে লোকজনের উপর চলে নির্মম নির্যাতন। উপজেলা প্রশাসনের প্রধান ফটক এলাকার এক ব্যক্তির একটি দামী মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরকে সন্দেহ করে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে এসআই কুতুব উদ্দিন একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। মোটরসাইকেলটি দীর্ঘদিন থানার হাজত খানা এলাকায় পড়ে থাকলেও প্রাক্তন ওসি রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর বদলীর ঠিক মুহুর্তে এসআই কুতুব চোরাই মোটরসাইকেলটি অর্থের বিনিময়ে দিয়ে দেন। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া কুতুবকে প্রত্যাহার করতে ইতোপূর্বে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রাক্তন ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবরে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, এসআই কুতুবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া চোরাই মোটরসাইকেল সংক্রান্তে যে বক্তব্য সেটা অমি দায়িত্ব গ্রহণের আগের ঘটনা। সম্প্রতি বান্দরবানে কুতুবকে বদলীর যে আদেশ জারি করা হয়েছিল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেটি স্থগিত করে পুনরায় পটিয়া থানায় যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: