বাক প্রতিবন্ধি সন্তানের খোরপোষ দাবীতে পেকুয়ায় সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

এম.জুবাইদ.পেকুয়া: পেকুয়ার রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তার বাক প্রতিবন্ধি সন্তানের খোরপোষ না দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছে তালাক প্রাপ্ত ২য় স্ত্রী। সম্প্রতি রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন সিকদারের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মোরতুজা বেগম বাদী হয়ে তার বাকপ্রতিবন্ধি পুত্রকে খোরপোষ না দেওয়ার অভিযোগে এনে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে পারিবারিক মামলা দায়ের করেন যার নং ১৩০।

মামলায় আসামী করা হয় বাদীনির ভূতপূর্ব স্বামী রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন সিকদার, একই ইউনিয়নের আমিলা পাড়া এলাকার মৃত নাগু মিয়ার পুত্র এস এম আমিন উল্লাহ, রকব্বত আলী পাড়া এলাকার সিকান্দর আলীর পুত্র রিয়াজ খান রাজু, মৌলভী পাড়া এলাকার মৃত নুরুল হোছাইনের পুত্র রিদুয়ানকে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায় রাজাখালী ইউনিয়নের বকব্বত আলী পাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেন সিকদারের পুত্র ও রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন সিকদার ১৯৯৪ সালে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক একই ইউনিয়নের ছড়ি পাড়া এলাকার আহমদ কবিরের বিধবা মেয়ে মোরতুজা বেগমকে জমিজমার লোভে ২য় ন্ত্রী হিসাবে বিয়ে করে। আনোয়ার হোছাইনের সাথে সংসার জীবনে মরতুজার ঘরে একটি বাকপ্রতিবন্ধি সন্তানের জন্ম হয়। সে সন্তানের নাম রাখা হয় জিয়াউল হক নয়ন। এ থেকে শুরু হয় সংসার জীবনে নির্যাতন। তারপরও মুরর্ত্তজা বেগম তার জমি বিক্রয় করে স্বামী আনোয়ার হোছাইন সিকদারকে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় খরচ জোগাড় করে দিয়েছিলেন। এতে ক্ষান্ত না হয়ে ২০১১ সালে মরর্ত্তজা বেগম কে তালাক দেয়। পরে তার বাক প্রতিবন্ধি নাবালক সন্তানের ভরণ পোষন বাবত ২ লক্ষ টাকার পাওয়ার জন্য আদালতে আশ্রয় নেয় মরর্ত্তজা বেগম।

শেষ পর্যন্ত আনোয়ার হোছাইন চেয়ারম্যান ওই মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মামলার অন্যান্য বিবাদীগণ স্থানীয় ভাবে শালিশ করে দেওয়ার অজুহাত এনে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মরত্তজা বেগম হতে অলিখিত এক শত টাকার নন জুড়িশিয়াল ৩ টি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে নেই। তারপরও কোন ধরণের আপোষ মিমাংসা না করায় ষ্ট্যাম্প ফেরত চাইলে বিবাদীগন মিমাংসা করে দেবে বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ওই বাদিনির স্বাক্ষরিত অলিখিত নন জুড়িশিয়াল ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিবাদীগণ যোগসাজসে স্বাক্ষরিত ষ্ট্যাম্প পূরণ করিয়া গুরুত্বপূর্ণ দলিল সৃজন করে ষড়ষন্ত্রের শিকার হবে বলে সংবাদ পেয়ে বাদিনী ওই স্বাক্ষরিত অলিখিত ষ্ট্যাম্প বিবাদী থেকে ফেরত চাইলে দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। এতে বাদিনীর প্রতিয়মান হয়যে বিবাদীগণ পরস্পর ষড়যন্ত্র করে বাদীনির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করার জন্য মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ৩টি এক শত টাকার নন জুড়িশিয়াল অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে নেয়। ওই অলিখিত নন জুড়িশিয়াল ষ্ট্যাম্প ৩টি উদ্ধারের জন্য গত ১০ এপ্রিল মরর্ত্তজা বেগম বাদী হয়ে ভূতপূর্ব স্বামী রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন সিকদার, একই ইউনিয়নের আমিলা পাড়া এলাকার মৃত নাগু মিয়ার পুত্র এস এম আমিন উল্লাহ, রকব্বত আলী পাড়া এলাকার সিকান্দর আলীর পুত্র রিয়াজ খান রাজু, মৌলভী পাড়া এলাকার মৃত নুরুল হোছাইনের পুত্র রিদুয়ানকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইনের সিকদারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওনার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে বার বার কল দিলেও সংযোগ না পাওয়া বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: