বাচাঁও কর্ণফুলী কর্ণফুলী বাচঁলে চট্টগ্রাম বাঁচবে, বাচঁবে দেশ

সফিকুল আলম

ওরে কর্ণফুলীরে সাক্ষী রাখিলাম তুরে, অভাগিনীর দুঃখের কথা কবি বন্ধুরে।

যে গানে অভাগিনী প্রেম সংক্রান্ত দুঃখের কথা কর্ণফুলীকে বলে নিজেকে হালকা করেছেন সেই কর্ণফুলী নদী এখন নিজেই অভাগী। অস্থিত্ব সংকটের মুখে এখন এই নদী। হারিয়ে যাওয়ার পথে তার ইতিহাস ঐতিহ্য। আগের মতো নেই গতি আর স্রোত। দুই পাশের চাপে তার শরীর আজ সরু।

হয়তো আর বেশি দিন লাগবেনা না, যখন তিস্তার মতো চিৎকার করেও কোন লাভ হবেনা। রক্ষা করা যাবে না নদী নামের অমূল্য এই সম্পদকে। ভূমি দস্যুরা ধীরে ধীরে গিলতে শুরু করেছে তার গোটা শরীর। তার শ্বাস নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিয়েছে আশেপাশের অর্থ লোভী মানুষগুলো অনেক আগে।

অপরিকল্পিতভাবে নদীর গায়ে দৈত্যাকৃতির ৪টি পিলার প্রতিনিয়ত থামিয়ে দিচ্ছে তার গতিপ্রকৃতি। ধমিয়ে দিচ্ছে তার অসীম ক্ষমতাকে।কর্ণফুলী ব্রীজের চেয়ে অনেক বড় কলকাতার হাওড়া ব্রীজ যদি কোন পিলার ছাড়া হতে পারলে কর্ণফুলী নয় কেন?

ইতিহাস বলে, নদীই মানুষের ভাগ্যে পাল্টে দেয়।সভ্যতা গড়ে ওঠে নদীকে কেন্দ্র করে। অর্থনীতির চাকা সচল হয় তার পানির ওপর ভর করে।।যেভাবে নীল নদকে ঘিরে মিশর আর টেমস নদীকে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ড। একইভাবে কর্ণফুলী পাল্টে দিয়েছে চট্টগ্রামবাসীর ভাগ্য। সচ্চল ও গতি এসেছে এই এলাকার মানুষের জীবনমানে । সমৃদ্ধ হয়েছে চাটগাঁ সংস্কৃতিও। শুধু চট্টগ্রাম নয় গোটা দেশের অর্থনীতির চেহেরা পাল্টে দিয়েছে এই নদী। কারণ এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে প্রকৃতি পদত্ত চট্টগ্রাম বন্দর।যা বিধাতা নিজ হাতেই গড়ে দিয়েছে। বিশ্বে বিরল এমন বন্দর । দেশের আমদানী রপ্তানীর ৯২ শতাংশ হয়ে থাকে এই নদীকে ঘিরে। সমুদ্র বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ। যার ওপর ভর করে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে চায় দেশ। যাকে অর্থনীতির লাইফ লেন বলা হয়ে থাকে। যার জন্য বিশ্বব্যাপী দেশের এতো এতো খ্যাতি আর নামডাক। তাকে আমরা হেলায় মিশিয়ে দিচ্ছি। চরমভাবে অবহেলা করা হচ্ছে এই নদীকে। নদী আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু আমরা কি দিয়েছি!

খালি চোখে দেখলে মনে হবে কর্ণফুলী ঠিকই আছে। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেনতো। আগে কত পশ্বস্ত ছিল এখন কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? ২০/৩০ বছর আগে কেমন ছিল,পরবর্তী ৩০ বছর পর কি হবে এই নদীর? আমরা কি পরের প্রজম্মের কথা চিন্তা করেছি একবারও? কি রেখে যাচ্ছি তাদের জন্য? হয়তো বসে বসে এই নদীর শেষ নিশ্বাস দেখবে তারা। মরণও দেখতে পারে!

এই নদীকে রক্ষা করার দায়িত্ব চট্টগ্রামবাসীর। কারণ নদী আছে বলে আমরা আজও স্বচ্চল। পানির কারণে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায়না। খাদ্য সংকটে পড়িনা। নিজেদের সচ্চল রাখতে কাজের সন্ধ্যানে অন্য কোন জায়গায় যেতে হয়না। বন্দরকে ঘিরে দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি। কেউ এসে এই নদীকে রক্ষা করবে না। আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে।সুইমিংপুল,ছাত্রলীগ,আ জ ম নাছির,মহিউদ্দীন চৌধুরী সংবাদের প্রধান শিরোনাম হতে পারলে কর্ণফুলী বাচাঁর আন্দোলন কেন শিরোনাম হতে পারবনা! আমরা মিডিয়া কর্মীরা কি পারি না একসাথে নদীটি রক্ষায় কলম ধরতে! আমাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে? সবার এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধভাবে নদীর রক্ষায় এগিয়ে আসা নদীর জন্য নয়, আমাদের নিজেদের জন্য।পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। আসুন আমরা নদীটি রক্ষায় আন্দোলন নামি একসাথে……

  সফিকুল আলম,রিপোর্টার,সময় টিভি. চট্টগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: