মৃত্যুঞ্জয়ী আলোকবর্তিকা জোবায়ের

আবুল কালাম

এই জগত সংসারে কিছু কিছু মানুষের আবির্ভাব হয় সৃষ্টি কর্তার উপহার স্বরূপ।তাঁরা শুধু তাঁদের জিবদ্দশায় নয়, মৃত্যুর পরেও মানুষের কল্যানে নিয়োজিত থাকে।আর তাঁরা দেহ ত্যাগ করে ঠিকই কিন্তু অনন্তকাল ধরেই বেঁচে থাকেন এই জগত সংসারেরই প্রতিটি প্রাণে। তেমনি একজন মানুষ, মধ্যম হালিশহর কলতান সংঘের প্রয়াত সভাপতি ও জেবি গ্রুপের চেয়ারম্যান, সমাজ সেবক আলহাজ্ব মোঃ জোবায়ের। গত বছর এই দিনে মহান রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে তিনি পরপারে পাড়ি দিয়েছিলেন।কিন্তু যেখানেই যাই তাঁকে এখনো খুঁজে পাই। কেননা মসজিদ,মাদ্রাসা,স্কুল,সামাজিক সংগঠন,রাস্তা-ঘাট,এমন কোন স্থাপনা নেই যেখানে মেধা,শ্রম আর আর্থিক ভাবে তাঁর সংমিশ্রন ঘটেনি।

তিনি ছিলেন দুঃস্থ,গরিব,অসুস্থ অসহায় মানুষের পরম বন্ধু।তাঁর মৃত্যুর পর এখনো তাঁকে খুঁজে বেড়ায় শুধু এলাকার নয়, দূর দুরান্তের অনেক অসহায় মানুষ। তাঁর জীবদ্দশায় আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি তিনি যে নিজ এলাকা ছাড়াও আরো কত অসহায় মানুষের সহায় ছিলেন।সেটা তিনি প্রমান করেছিলেন তাঁর মৃত্যুর পর অগনিত মানুষের চোখের জল আর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল দিয়ে।

আমার সীমাহীন সৌভাগ্য যে আমাকে তিনি খুব পছন্দ করতেন। বিশেষ করে এলাকার গরিব, দুঃস্থদের সাহায্যের ক্ষেত্রে উনি প্রায়ই দায়িত্ব আমার উপর অর্পন করতেন।তিনি দান দয়ার ক্ষেত্রে সব সময় নিজেকে গোপন রাখতে পছন্দ করতেন।স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন সাধারণ জীবন যাপনে।তাই অনেকেই উনার নাম জানতেন কিন্তু চিনতেন না।উনার বাড়ির সামনে দিয়েই আমাকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। প্রায়ই তাঁর বাড়ির সামনে আসতেই, তিনি অনেক ভাল মানুষ ছিলেন,এত অল্প সময়ে কেন চলেগেলেন,গরিবের বন্ধু ছিলেন এসব কথা অসহায় মানুষদের নিঃশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসে । আমি অবাক হয়ে যাই, যখন দেখি অনেকে আমার কাছে নতুন করে তাঁর পরিচয় তুলে ধরেন তাঁর বাড়ির সামনে আসতেই!

ক্ষমাশীল তাঁর আরেকটি অন্যতম গুন।তাঁর জীবদ্দশায় নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী থেকে জঘন্যতম অপরাধ করার পরেও কারো চাকরি হারাতে হয়নি।অকপটে ক্ষমা করে বারবার সুযোগ করে দিতেন নিজেদের সুধরাবার জন্য, এটা চোখের টলমল জলে স্বীকার করেছিলেন জেবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃবেলায়েত হোসেন।

তিনি চলে যাবার পর এলাকার আশাহত মানুষদের পাশে আত্নার আত্নীয় হয়ে দাঁড়ান তাঁরই সহ ধর্মিনী সাকিরা নুর চৌধুরী।পাহাড় সম কষ্ট বুকে চেপে রেখে শোকে কাতর না হয়ে প্রিয়জনের অসমাপ্ত চাওয়া,আকাংখা গুলো পূর্ণ করার যুদ্ধে নেমে যান।তাঁর সমস্ত পূণ্যময় কাজ গুলো চলমান রাখার আপ্রান চেষ্টাই এখন তাঁর জীবনের একমাত্র ধ্যান। আর জোবায়েরের মতো মানুষেরা তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরী দিয়েই এভাবে মৃত্যুর পরও মানুষের কল্যানে আজীবন বেঁচে থাকেন।তিনি আমৃত্যু আমাদের অভিভাবকের আসনেই অধিষ্টিত থাকবেন।

মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমাদান পূর্বক জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে নসীব করুন আর তাঁর পরিবারের সহায় পুর্বক হেফাজত করুন।আমিন।
লেখক: আবুল কালাম,
সাহিত্য ও প্রচার সম্পাদক,
মধ্যম হালিশহর কলতান সংঘ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: