কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার পরিকল্পনা আছে: র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক: দেশে আরও দুটি বিভাগ করার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’

বুধবার কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দফতরে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। যা এখন ১৬ কোটি। তাদের সঠিক সেবা দিতে প্রশাসনকেও ঢেলে সাজানো দরকার। সেটা আমরা করছি। র‌্যাবের অবকাঠামোগত সুযোগ বৃদ্ধির ব্যবস্থাও নিয়েছি। ২০১৫ থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের বাজেট দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাবের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোনও অপারেশনে সমন্বয়ের প্রয়োজন। যার যেখানে যতটুকু আছে তা সহযোগিতা কররে।’

দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ করেছি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উন্নয়নে আমরা বরাদ্দ বিশেষভাবে বাড়িয়েছি। কারণ আমরা মনে করি তাদের বরাদ্দ বাড়ানো আমাদের ব্যয় না বরং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ গড়ার জন্য মাত্র সাড়ে তিনবছর সময় পেয়েছিলেন। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, আরেকদিকে শরণার্থী। তারপরও তিনি বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে অর্তনৈতিক উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ৭৫ এ জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হলো। ফলে স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পাওয়ার যে ‍সুযোগ তৈরি হয়েছিল তা থেমে যায়। এই থমকে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২১বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও দেশের উন্নয়ন শুরু করে। আগেই আমরা পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম যখনই সরকারে যাব দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবো। যার সুফল এখন দেশের জনগণ ভোগ করছে। ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করি। এখন বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। কারণ দেশের প্রতিটা সদস্য, প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গিবাদ আজ সারা বিশ্বের বড় সমস্যা। বাংলাদেশ মাঝে মাঝে এ হামলার শিকার হচ্ছে। জঙ্গিবাদ ঠেকাতে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। এটা করতে গিয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন আমি শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখনই সরকার গঠন করেছি প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছি। দেশের জনগণকে সঠিক সেবা দিতে প্রশাসনকেও ঢেলে সাজিয়েছি। এ জন্য র‌্যাবের অবকাঠামোগত সুযোগ বাড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েছি। ২০১৫ থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের বাজেট দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। তাদের অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনও অপারেশনে সমন্বয় প্রয়োজন।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব সফল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব জঙ্গি সংগঠেনের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে। আতিয়া মহলকে সাহসিকতার সঙ্গে বিস্ফোরকমুক্ত করেছে। দস্যুদের আত্মসমর্পন করিয়ে সুন্দরবনকে নিরাপদ করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: