বান্দরবানে বিআরটির কোন ফি জমা নিচ্ছে না ব্যাংক, ভোগান্তিতে যানবাহন মালিকরা

রিমন পালিত. বান্দরবান প্রতিনিধি: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সর্পোট অথরিটি বিআরটিএ’র কোন ফির টাকা জমা নিচ্ছেনা বান্দরবানের কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক। সরকারি কোষাগারের এই টাকা জমা দিতে গ্রাহকদের যেতে হচ্ছে পাশ্ববর্তী জেলা চট্টগ্রামে। নিজ জেলায় টাকা জমা দিতে না পারায় যানবাহনের রেজিষ্ট্রেশন, লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দুর দুরান্ত থেকে আসা জেলার সাধারণ মানুষ।

যানবাহনের ফিটনেস ,ট্যাক্স টোকেন, ইনস্যুরেন্স, রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে সপ্তাহের প্রতিদিনই কর্মব্যস্ত থাকে জেলার বিআরটিএ’র অফিসটি। সরকারি বিভিন্ন ফি জমা দিতে ফরম প্রস্তুতসহ যানবাহনের দলিলপত্র পর্যবেক্ষণ করা হয় এখান থেকে। সব মোটামুটি ঠিক থাকলেও বিপত্তি বেধেছে সরকারি রাজস্বের টাকা জমা দেয়া নিয়ে। জেলার মানুষ বিআরটিএ অনুমোদিত ট্রাষ্ট ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে এ টাকা জমা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ব্যাংকের সাথে বিআরটিএ’র অফিসের চুক্তি শেষ হওয়ায় এ বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে সংস্থাটির কোন ফি জমা নিচ্ছেনা বাণিজ্যিক এ ব্যাংকটি। ফলে যানবাহনের বিভিন্ন ফি জমা দিতে জেলার মানুষকে ছুটতে হচ্ছে পার্শ্ববতী চট্টগ্রামে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জেলার কয়েক হাজার সেবা গ্রহীতা।

বান্দরবানের বিআরটিএ সেবা নিতে আসা গ্রাহক অমল জানান, দীর্ঘ তিন মাস যাবৎ কোন ফি নিচ্ছে না স্থানীয় কোন ব্যাংক এতে মোটর সাইকেলের নবায়ন ফি জমা দিতে না পারায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ।

বান্দরবানের লামা উপজেলা থেকে আসা মো:নুর জানান,বান্দরবানের বিআরটিএর কোন ফি স্থানীয় ব্যাংকে জমা দিতে পারায় পাশ্ববর্তী কেরানিহাট ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে আবার বান্দরবান এসে অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়ে আমাকে লামা ফেরত আসতে হয় । যে কাজ এক ঘন্টায় হবার কথা ছিল সে কাজ করতে আমার দুই দিন সময় লেগে গেল।

বান্দরবানের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মো:রফিকুল আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার মোটর সাইকেলের কাগজপত্র আপডেট করার জন্য বিআরটি এ যাচ্ছি আর আসছি , কিন্ত তারা শুধু বলছে বিআরটি এর সাথে বান্দরবানের ট্রাস্ট ব্যাংকের সাথে চুক্তি শেষ । এদিকে চুক্তি না হওয়ায় আমার মত অনেকেই এই কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে । তিনি আরো জানান, জেলা সদরের মত এমন একটি জায়গায় কোন ব্যাংক ফি নিবে না এমনটা মানতে আমরা পারছি না । কর্তপক্ষের অবহেলায় হয়ত আমার মত যানবাহনের মালিকদের কষ্ট মেনে নিতে হচ্ছে ।

বান্দরবান বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে বান্দরবানে বিআরটিএ অফিস চালুর পর দৈনিক লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন ফি ব্যাংকে জমা হত , কিন্তু বর্তমানে বান্দরবানে কোন ব্যাংকে ফি জমা না নেওয়ায় তার পরিমান অনেকটাই কমে গেছে । বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত ব্যাংকের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারি কোষাগারে আগে প্রতিদিন যে পরিমান ফি এর টাকা জমা পড়ত বর্তমানে দূরে গিয়ে ব্যাংকে অনেকেই ফি এর টাকা জমা দিচ্ছে না এবং যানবাহনের কাগজপত্র ও হালনাগাদ করছেন না। তবে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেবার কথা জানান বিআরটিএর বান্দরবান সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক পলাশ খীসা।তিনি জানান, ফি জমা না নেওয়ায় আমাদের কাজে ও স্থবিরতা নেমে এসেছে , তবে আমরা আমাদের চেয়ারম্যানকে ও জেলা প্রশাসককে চিঠি প্রেরণ করেছি আশা করি একটা সমাধান হবে।

তবে জেলার কোন ব্যাংকের সাথে বিআরটিএর নতুন চুক্তি হোক আর না হোক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসন। গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা মেনে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুমোদিত ব্যাংকের অন্তত একটি বুথ চালু করে যানবাহনের ফি জমা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো.মুফিদুল আলম । তিনি জানান, শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বুথ চালু করে হলে বিআরটিএ’র সকল ফি জমা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কালক্ষেপন না করে স্থানীয় জনসাধারণের দু:খ লাঘবে শীঘ্রই সমস্যা সমাধানে জেলা শহরে একাধিক ব্যাংকে সরকারি বিআরটি এর রাজস্বের টাকা জমা নেবার ব্যাবস্থা করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: