বেঞ্চ সংকটে মেঝেতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে রায়জোয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা,চন্দনাইশঃ চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভাস্থ রায়জোয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সংকটের ফলে মেঝেতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আনন্দের সাথে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কথা থাকলেও বসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মেঝেতেই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ৪৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকাল বেলায় শিশু শ্রেণিতে ৩০ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১৩০ জন ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১২২ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। দ্বিতীয়পর্বে দুপুর বেলায় তৃতীয় শ্রেণির ৮৩ জন, চতুর্থ শ্রেণির ৬৩ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ৩১ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়ের মোট ৪ টি শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৪০ জোড়া বেঞ্চ রয়েছে। প্রায় ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিটি বেঞ্চে বইসহ তিনজন শিক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে চার থেকে পাঁচজন শিশুকে বসতে হচ্ছে। বেঞ্চে বসার প্রতিযোগিতায় যাদের সৌভাগ্য হয় না তাদেরকে শ্রেণিকক্ষের পেছন সারিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

সারেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বসার আসন না থাকায় শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক তাহেরা বেগম জানান বিদ্যালয়ে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী রয়েছে তার তুলনায় বসার বেঞ্চ নেই। বিদ্যালয়ে সর্বমোট বেঞ্চের সংখ্যা ৭০ জোড়া তৎমধ্যে ব্যবহার উপযোগী বেঞ্চ রয়েছে মাত্র ৪০ জোড়া এতে বড়জোর ১২০ জন শিক্ষার্থী বসে পরীক্ষা দিতে পারে। অন্য দিকে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হওয়ায় মেঝেতে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানায়।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক টিংকু কান্তি দাশ জানান, ‘বেঞ্চ সংকটের ফলে শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংকুলান না হওয়ায় শুধু পরীক্ষা নয় বিগত বছর গুলোতে শ্রেণীতে পাঠদানও চলেছে একই পরিস্থিতিতে কখনো মেঝেতে বসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দনাইশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আশরাফুল আলম সিরাজী সাহেবকে এব্যাপারে অবহিত করার পর তিনি বিদ্যালয়ে সারেজমিন পরিদর্শনে এসে বেঞ্চ সংকট নিরসণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছিলেন।’

সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, ‘মেঝেতে উপুড় হয়ে পরীক্ষা দিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সারা দেশে যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে নিয়ে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখা হচ্ছে,তখন বেঞ্চ সংকটের ফলে মেঝেতে পরীক্ষা নেয়াটা দুঃখজনক।

একদিকে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতা মূলক ও সকলের দ্বারে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, অপর দিকে শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অল্প পরিসরে গাদাগাদি করে (একই বেঞ্চ এ ৩জন ৪জন) পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম সিরাজী বলেন, বেঞ্চ সংকটের বিষয়ে রায়জোয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে। তিনি আবেদনপত্রটি জমা দিলে সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: