কীভাবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ডিম ভাঙতে হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ডিম কীভাবে ভাঙতে হয় তা বুঝি কারও অজানা নেই। কিন্তু ডিম ভাঙতে গিয়ে কেউ কেউ বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেক সময় দেখা যায় ডিম ভাঙতে গিয়ে হাতে লেগে আছে ডিমের কুসুম, খোসা পরে আছে বাটিতে। তা এই সমস্যার সমাধান কি? সমাধান হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের একটি ফর্মুলা ব্যবহার করে খুব সহজেই ডিম ভাঙা যাবে। শুধুমাত্র পদার্থবিদ্যার কিছু সাধারণ নিয়ম জানলেই হবে।

সঠিকভাবে ডিম ভাঙতে হলে আপনাকে জানতে হবে ডিমের কোথায় এবং ঠিক কত জোরে আঘাত করতে হবে। ডুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্টিস্ট ভল্কার ব্লাম বলেন ‘ডিমের সবচেয়ে চ্যাপটা অংশ অর্থাৎ ঠিক মাঝে ফাটল ধরাতে হবে’।

সব জিনিষের মতই ডিমের খোসারও ব্রেকিং-পয়েন্ট রয়েছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সীমার পর এটি আর চাপ সহ্য করতে পারে না। ডিমের খোসা যেখানে সবচেয়ে দুর্বল সেখানে এই চাপের সীমাও সর্বনিম্ন। আর ডিমের মাঝখান হল সব থেকে দুর্বল। এর কারণ ডিমের মাঝখান হল সবচেয়ে চ্যাপটা। অন্যদিকে ডিমের উপর ও নিচের দুইপাশ বাঁকা তাই এটি ডিমের খোসার সব থেকে শক্তিশালী অংশ। তাই এই দুইপাশ ভাঙাও কঠিন।

ধনুকাকৃতির একটি গঠন কল্পনা করুন যেমন ধনুকাকৃতির একটি ব্রিজ। সমতল কোন গঠনের তুলনায় এটি বেশি ভার সহ্য করতে পারে। কারণ একটাই, ধনুকাকৃতির গঠন চারপাশে সমান ভাবে ওজন ছড়িয়ে দেয়। ডিমের জন্যেও এটা সত্যি। এমনকি আপনি যদি দুই আঙুল ডিমের দুই পাশে রেখে জোরে চাপ দেন, সম্ভাবনা খুবই কম যে আপনি ডিমের খোসা ভাঙতে পারবেন। কারণ ডিমের বাঁকানো অংশ আপনার দেওয়া চাপ চারদিকে সমান ভাবে ছড়িয়ে দেবে।

ডিমের কোথায় ভাঙতে হবে তা তো জানলেন। এখন সেখানে দ্রুতগতিতে একটি ফাটল ধরাতে হবে যাতে আপনার বুড়ো আঙুল ঢোকানো যায়। বাকি কাজটুকু আপনার চেষ্টার উপর নির্ভর করবে।

একবার যখন কোন জিনিসে ফাটল ধরে, সঠিক পরিমান বল প্রয়োগ করার আগ পর্যন্ত ফাটলটি খুবই ধীরে প্রশস্ত হয়। তাই বস্তটি ক্রিটিকাল ক্র্যাক লেন্থে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বল প্রয়োগ করতে হয়। ক্রিটিকাল ক্র্যাক লেন্থে পৌছামাত্রই যতক্ষণ দৃঢ় বল থাকে, ফাটল দ্রুত বাড়তে থাকে । সফলভাবে ডিম ভাঙতে হলে ফাটল ধরানোর পরে সেখানে যথাযথ চাপ প্রয়োগ করতে হবে যাতে ফাটলটি বড় হতে থাকে। সাবধান থাকতে হবে যে চাপ যেন খুব বেশি না হয়। ডিমের দুই পাশ দুই দিকে খুব জোরে টান দিলে খোসা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে।

তো অপেক্ষা কিসের? বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আপনিও আজ থেকে ডিম ভাঙায় পারদর্শী হয়ে একধাপ এগিয়ে যান পাকা রাঁধুনির তকমা পেতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: