চট্টগ্রামে ওয়েল ফেয়ার লটারীর নামে চলছে প্রতারণা, প্রশাসন নির্বিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে ওয়েল ফেয়ার লটারীর নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পুরো চট্টগ্রাম শহরই জুয়া খেলার নেশায় মেতে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানের সামনে লোকজন জড়ো করে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ লটারীর ব্যবসা। বিশেষ করে নগরীর পাঠানটুলী রোডস্থ নজির ভান্ডার গেইটের সংলগ্ন কয়েকটি দোকানে ২০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০টাকার কার্ড কিনলে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছে লটারীর জুয়া খেলা ব্যবসা। সাধারণ মানুষের কাছে লটারীর নামে স্ক্যাচ কার্ড বিক্রয় করে চালিয়ে যাচ্ছে এ অভিনব প্রতারণা।

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, নগরীর পাঠানটুলী খান সাহেব স্কুলের সামনে স্কুলের টিফিন ছুটিতে কোমলমতি স্কুল পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরা ভীড় জমিয়ে ঐসব লটারী কিনছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা দিয়ে দেদারসে ক্রয় করছে স্ক্র্যাচ কার্ড লটারী। শিশুরা অধিক লাভের আশায় এসব স্ক্যাচ কার্ড কিনে প্রতারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। শুধু শিশুরা নয়, আবাল বৃদ্ধ-বনিতা এ প্রতারণার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অতিরিক্ত লাভের আশায় কোমলমতি অনেক শিক্ষার্থী বাসা হতে টাকা চুরি করেও এ লোভনীয় লটারীর টিকেট কিনছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

দিনমজুর, ড্রাইভার, গার্মেন্টসকর্মী, রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে নিন্ম আয়ের লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছে এই সব লটারী ব্যবসায়ীরা। কৌতুহল:বশত কিছু স্ক্যাচ কার্ড সংগ্রহ করে দেখা গেছে ওয়েল ফেয়ার পিবিডিএফ নামে একটি সংস্থার নামে টিকেটগুলো বিক্রি করা হচ্ছে এবং তা সরকার অনুমোদিত বলে উল্লেখ রয়েছে। কার্ডের পিছনে যে হটলাইন নাম্বার দেয়া আছে তাতে ফোন দিলে নাম্বারগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অতি দ্রুত এসব টিকেট বিক্রি বন্ধ করা না হলে তা মহামারী আকার ধারণ করবে। সাধারণ ও সহজ সরল মানুষ এ প্রতারকদের হাতে সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে বলে তাদের ধারণা। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনে দুপুরে এ অবৈধ লটারী বাণিজ্যরোধে নেই কোন সংস্থার তদারকি। সাধারণ মানুষও জানে না এটা দেখভাল করার দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের কোন খবর তাদের কাছে নেই। কারা এসব অপকর্ম করছে তাদের নামধাম ও ঠিকানা তাকে দেয়ার জন্য প্রতিবেদককে বলেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে খান সাহেব স্কুলের সামনে নজীর ভান্ডার মাজার গেইটের পাশে “আমাদের ফার্মেসী“ নামে একটি দোকান ও তার বিপরীতে আরো একটি ঔষধের দোকান এবং ঐ এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি দোকান এসব অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে নির্ধিদ্বায়। সন্ধ্যার পর একধরনের লটারীর বাজারে পরিণত হয় এ অঞ্চল। শুধু পাঠানটুলী রোড নয়, নগরীর বিভিন্ন আনাচে কানাচে এ ব্যবসা ভাল জমে উঠেছে বলে নগরবাসীর অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: