আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল : ২৫ বছর পরেও অরক্ষিত আনোয়ারা উপকূল

সুমন শাহ, আনোয়ারা : ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের অন্যান্য উপকূলের মত আনোয়ারা উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। ২৫০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানা ওই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছাসে আনোয়ারায় প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এরপর ২৫টি বছর কেটে গেলেও এখনো স্থায়ী নিরাপত্তা পায়নি উপকূলবাসি। প্রতি বছর উপকূল রক্ষার নামে বরাদ্ধ হলেও এখনো সুফল পাননি তাঁরা।

গত শুক্রবার উপকূলের রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সরেঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধ এখনো ক্ষত-বিক্ষত, কিছু স্থানে বাঁধ সংস্কার করে জিও ব্যাগ বসানো হলেও শঙ্খের জোয়ারের ধাক্কা আছড়ে পড়ছে সে বাঁধে। পূর্ব গহিরার ফকিরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। একইভাবে ধলঘাট ও বার আউলিয়া এলাকায়ও একই দৃশ্য দেখা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর একনেকে ২৮০ কোটি বরাদ্ধ দেওয়া হয়। তার মধ্যে আনোয়ারার জন্য ২৫০ কোটি ও পতেঙ্গার জন্য ৩০ কোটি টাকা। সেখান থেকে আনোয়ারা উপজেলার জন্য ছয়টি প্যাকেজে কয়েকটি ফোল্ডারের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারেরা বর্ষার পানি ঠেকানোর জন্য কিছু সংস্কার কাজ করলেও পুরো কাজে হাত দিবেন বর্ষার পরে।

ফকিরহাট এলাকার শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘উপকূল অরক্ষিত, আমরা এখনো অরক্ষিত। ৯১ সালের দুর্যোগের এতবছর পরও আমরা নিরাপত্তা পাইনি।

জানতে চাইলে রায়পুরের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, অতিসত্বর বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবী করি, কারণ এলাকার মানুষের কষ্টের অন্ত নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ফরায়েজুল ইসলাম বলেন, আনোয়ারা উপকূলের জন্য বিভিন্ন ফোল্ডারে টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষার পরে কাজ শুরু করবেন ঠিকাদারেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: