মুহিতের সঙ্গে হট্টগোলের পর নজিবুর-সফিউল বাহাস

ডেস্ক: আসছে জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন দমনের ঘোষণা নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিরোধ ও হট্টগোলের পর একই অনুষ্ঠানে তর্কে জড়িয়ে পড়লেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ও ব্যবসায়ী নেতা এফবিসিসিআই এর প্রথম সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এনবিআর চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সহসভাপতির বাহাস দেখলো অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা। তবে এর কিছুক্ষণ আগেই জরুরি আরেকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিজের বক্তৃতা শেষ করে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান মুহিত।

অর্থমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ছাড়ার সময় ‘আলোচনা চলবে’- মাইকে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ এমন ঘোষণা দিলেও মূলত তা আর চলেনি। কার্যকর সমাপনীতে চলে যায় পুরো অনুষ্ঠান। নতুন করে কোনো ব্যবসায়ীকে আর কথা বলতে দেয়া হয়নি।

আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর আয়োজন করে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরোধে কিছুটা ক্ষুব্ধ এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের একহাত নেন। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের নাড়ি-নক্ষত্র আমার জানা আছে। আমি সব জেনে কথা বলি। মনে রাখবেন, যখন কথা বলি না, তখন আমি সব তথ্য নিয়ে কাজ করি।”

নজিবুর রহমান বলেন, “আমরা সম্মানিত ব্যক্তিকে আনি অসম্মানিত করার জন্য নয়। সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতে হবে। কিন্তু আজ সেটি হয়নি। ব্যবসায়ীদের কথা বলা শিখতে হবে। কোনো ফোরামে কীভাবে কথা বলতে হয়। রাগ কমাতে হবে। এজন্য নেতাদের কাজ করতে হবে। আর আপনারা না পারলে আমার কাছে পাঠাবেন। আমি ঠিক করে দেব।”

এরপর ঘোষক সফিউল ইসলামকে ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সফিউল ইসলাম তার বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “এখানে আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই। সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। কেউ কাউকে শক্র ভাবা যাবে না। সেটি ভাবলে ভুল হবে। মতবিরোধ হতে পারে। কিন্তু একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।”

এসময় তিনি বলেন, “এফবিসিসিআই সভাপতি কিংবা এনবিআর চেয়ারম্যান কেউ স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় আসেন না। নির্ধারিত সময়ের জন্য আসেন।” এ কথা শুনে আবারও চটে যান নজিবুর রহমান। তিনি ফ্লোর নিয়ে সফিউল ইসলামকে বলেন, “আপনার আচরণ বদলাতে হবে। আমরা ক্ষমতায় আসি না। দায়িত্ব পালন করি।”

জবাবে সফিউল ইসলাম বলেন, “যেভাবেই বলেন। কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। আপনারা একটি মিষ্টি দোকানের ভ্যাট ফাঁকির চিত্র আজ দেখালেন, কিন্তু এভাবে সব ব্যবসায়ীকে তো দোষারোপ করা যাবে না। আপনারা এখানে এক ধরনের হুমকি দিলেন।”

এরপর আবার এনবিবার চেয়ারম্যান বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ দিতে বলা হয়েছে। বক্তব্য দিতে নয়। ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।

তখন মহিউদ্দিন বলেন, “এভাবে বললে হবে না। কথা শোনার ধৈর্য থাকতে হবে।”

এরপর তিনি দ্রুত বক্তব্য শেষ করে দেন।

এর আগে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর আটকাতে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের হুমকি দিলে তা দমনের কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে পুরো অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। চলে হট্টগোল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: