চট্টগ্রামে বিএনপি’র কর্মী সভা : উত্তরেরটি পন্ড, দক্ষিণ ও মহানগর নিয়েও সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে গতিশীল ও কার্যকর করতে জেলাওয়ারী কর্মী সভা করার সিন্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। কেন্দ্র ঘোষিত বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক টিম দেশজুড়ে এসব কর্মীসভা সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের ৩ সাংগঠনিক জেলায় দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খোন্দকার মোশারফ হোসেন।

কর্মী সভার প্রথমটি ২মে মঙ্গলবার কাজীর দেউড়ীস্থ নাসিমন ভবন প্রাঙ্গনে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম উত্তর জেলার এ কর্মী সভাটি দলীয় আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গোলযোগের মুখে পড়ে পন্ড হয়ে যায়। ফলে যে উদ্দেশ্যে কর্মীসভার আয়োজন তা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে বলে দল সংশ্লিষ্টদের অভিমত। দলীয় কোন্দল নিরসন ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য যেখানে কর্মীসভার কর্মসূচী সেখানে তা কোন্দলকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অনেকের অভিমত।

উত্তর জেলার কর্মী সভা দলীয় গ্রুপিং এর কারণে পন্ড হয়ে যাওয়ায় বাকী ২ সাংগঠনিক জেলা চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিনের কর্মী সভা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। আজ ৩ মে (বুধবার) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কর্মী সভা পটিয়ার হল টুডে কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে যেখানে ড.খোন্দকার মোশারফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিনের সমাবেশটি নগরীর অনন্ত বিলাস কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পটিয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায়ও রয়েছে একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপ। নানা সমীকরণ ও মেরুকরণের ফলে এসব গ্রুপ নিজেদেরকে শক্তিশালী ও তৃণমূলের সমর্থনযোগ্য বলে দাবী করার পাশাপাশি শক্তি প্রদর্শনেও মরিয়া হয়ে রয়েছেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়েও চলছে টানাপোড়েন। কেন্দ্রীয় বিএনপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কমিটি প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করার পরও দলীয় গ্রুপিং এবং কোন্দলের কারণে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে কিংবা কমিটি ঘোষণা করছে না বলে দাবী জেলার বেশীরভাগ নেতার। কর্মীসভায় নিজেদের আধিপত্য ও শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে প্রত্যেক গ্রুপ ইতোমধ্যে সবরকমের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলেও জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সূত্র। ফলে চট্টগ্রাম উত্তরের মতো দক্ষিণের কর্মীসভাটিও পন্ড হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কেন্দ্রীয় নেতারা তাই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন সভা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে। এ সভা হঠাৎ স্থগিত করা হতে পারেও বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে নেতাদের দাবী সভার প্রস্তুতি সম্পন্ন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দক্ষিণ জেলার কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাদের জোর দাবী।

এদিকে আগামী ৪মে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র কর্মীসভা নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যেখানে খোন্দকার মোশারফ হোসেন প্রধান অতিথি থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আন্তঃকোন্দলের কারণে গোছানো ও শক্তিশালীভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছেনা বলেই অভিমত সংশ্লিষ্টদের। বিভিন্ন সময়ে আংশিক কমিটি দিয়ে ভাঙাচোরা অবস্থায় চলছে দলীয় কার্যক্রম। যেকোন ধরনের সভা-সমাবেশে নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা এখানে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্ষোভের কোন সুরাহা না করে খোলা ময়দানে কর্মীসভা করার মত সাংগঠনিক পরিস্থিতিতে নেই দলের এ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটটি। তাই হঠাৎ করে এ কর্মীসভাকে অনেকে হঠকারী সিন্ধান্ত বলেও অভিহিত করছেন।

অপরদিকে উত্তরের কর্মী সভা পন্ড হয়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রামের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে দোষছেন বেশীরভাগ কর্মী। তাদের অভিমত উত্তরের আহবায়ককে জেলে রেখে যারা কৌশলে এ কর্মীসভা করতে চেয়েছেন গন্ডগোল তারই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সারাদেশের এত সাংগঠনিক জেলা থাকতে আগে উত্তরেরটা আয়োজনের মধ্য তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় আহবায়কের অনুপস্থিতে কর্মী সভার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবী তাদের। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ঐ নেতা এবং সদস্য সচিবের অভিমত কারো জন্য সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেমে থাকতে পারে না। কেউ জেলে থাকবেন কেউ বাইরে থেকে দল পরিচালনা করবেন এটাই স্বাভাবিক। নতুন কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়া ঐ নেতা নিজের ক্রেডিট জাহির করার জন্য কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে এ সভা আয়োজন করেছেন বলে দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন।

দক্ষিণ জেলাতেও দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করা সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল এবং কারা নির্যাতিত জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এনামুল হকের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কর্মী সভায় এটার বহিঃপ্রকাশ ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তৃণমুলের কর্মী সমর্থকরা।

মহানগরে ডাঃ শাহাদাত, আবুল হাশেম বক্কর কেন্দ্রীয় ভিন্ন ভিন্ন নেতার অনুসারী। দীর্ঘদিন চলতে থাকা একাধিক গ্রুপের শক্তি প্রদর্শন ও শো-ডাউনের প্রচেষ্টা থেকে এখানেও গন্ডগোলের আশঙ্কা অনেক বেশী বলে মহানগরের ওয়ার্ড ও থানা নেতাদের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: