তারা পালাবার জন্য তৈরি হোক,আমরা দেশ রক্ষার প্রস্তুতি নেয়: খালেদা

ডেস্ক: আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের সম্পদ গোটাতে ব্যস্ত এমন দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এখন তারা তাদের সম্পদ গোটাতে ব্যস্ত। কাজেই তারা পালাবার জন্য তৈরি হোক। আর আমরা জনগণকে নিয়ে দেশ রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক মতবিনিময় সভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইংগিত করে খালেদা বলেন ‘বর্তমান সরকার নয়, ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বার বার বলেছি, ‘এদের (বর্তমান সরকার) অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আমরা বলছি, অবশ্যই আমরা নির্বাচনে যাব, নির্বাচনে যেতে চাই। তবে সেই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আপনার অধীনে আমরা অনেক নির্বাচন দেখেছি। সেগুলো কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। সেজন্য আমরা পরিষ্কারভাবে জাতিকে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি।’

একইসঙ্গে দল ও অঙ্গসংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের সব সংগঠনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, শ্রমিক দলকেও পুনর্গঠন করতে হবে। যতই আমাদের সংগঠন শক্তিশালী হবে ততই এই লুটেরাদের ভয় বাড়বে। তারা জানে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে না।’

শ্রমিক দলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাতে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতা খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

সকালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করেন।

ক্ষমতাসীন দলের ‘বেপরোয়া’ কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা (ক্ষমতাসীন দল) এতই বেপরোয়া হয়ে গেছে, তারা মানুষকে মানুষ মনে করে না। তারা মনে করে পুলিশ বাহিনী আছে আমাদের। তাদের দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করব।

গুম, খুন, হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি দোষারোপ না করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘সরকার তাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছে এসব অন্যায় কাজ করার জন্য। র‌্যাব বা পুলিশ বাহিনী তারাও মানুষ, তারাও বুঝতে পারবে, তাদেরও পরিবার আছে, আত্বীয়-স্বজন আছে। তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) নিশ্চয় জানে, আমাদেরকে দিয়ে এসব কাজ জোর করে করাচ্ছে। পালাবার পর আমাদের ওপরই এর অন্যায়-অপরাধের দোষ পড়বে।

‘আমরা জানি পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব বা অন্যরা তারা নিজের উদ্যোগে কিছু করছে, নির্দেশে করছে। সবাই নয়, বেশির ভাগই ভালো। এরা সবাই দোষী নয়। কাজেই এদের সবাইকে এক কাতারে ফেলে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেয়া উচিৎ হবে না বা বিচার করা ঠিক হবে না।’

শ্রমিক দলকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের পরামর্শ দেন খালেদা জিয়া।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: