হযবরল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কর্মী সভা : এনাম আহত, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের ফাঁকা গুলি

সনজয় সেন, পটিয়া সংবাদদাতা : বুধবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলন পটিয়া হল টুডে কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুর পর পর দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে কর্মীরা আসতে থাকে । সেই সময় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামসহ একটি মিছিল সম্মেলনে ঢুকতে গেইটে গেলে এনাম-জুয়েল অনুসারিদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়।

এতে এনামসহ আহত হয়েছেন অনন্ত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে রোকন (৩০), ইয়াছিন আরাফাত (৩৭), বাবু (১৮), আহমদ নবী (৩৪), মো. আবু হানিফ (৩৪), মনছুর (২৭), মো. মানিক (২৫), মো. এরশাদ (২৫), মামুনুর রশিদ (২০), রকি (২৫), মোঃ সেলিম (৪০), মহিউদ্দিন (৩৪)।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশে এ কর্মী সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এতে অতিথি থাকার কথা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এম, মোর্শেদ খান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম।

বেলা ৩টার দিকে এনামুল হক এনামের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলে প্রবেশের প্রাক্কালে জুয়েল গ্রুপের অনুসারীরা তাদেরকে বাধা দেয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় লাঠিসোটা নিয়ে চেয়ার ছোড়াছুঁড়ি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে কেন্দ্রীয় নেতারা সভাস্থল থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয়। এনামকে রক্তাক্ত অবস্থায় সভাস্থল থেকে রাস্তায় নিয়ে আসলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা সড়কে অর্ধ শতাধিক গাড়ী ভাংচুর করে ও ব্যারিকেড দেয়। এসময় প্রায় এক ঘন্টা গাড়ী চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

পটিয়া থানার ওসি শেখ মোঃ নেয়ামত উল্লাহসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ রাউন্ট ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে।এসময় মো. আকবর নামের (২০) এক যুবককে পুলিশ আটক করেছেন। সে উপজেলার বুধপুরা গ্রামের মোতাহের উল্লাহর পুত্র। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নিলে গাড়ী চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, কর্মী সভার নামে বিএনপির দুই গ্রুপ গাড়ী ভাংচুরসহ ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে এবং এই ঘটনায় হাতে নাতে একজনকে আটক করা হয়েছে। এই ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম বলেন, জুয়েল গ্রুপের অনুসারীরা তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। শুধু তা নয় তারা আমাকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের অবগত করলে কর্মী সভার প্রধান অতিথিসহ অন্যরা সভাস্থলে যায়নি।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট পটিয়ায় গাজী মোঃ শাহজাহান জুয়েল, এনামুল হক এনাম ও ইদ্রিস মিয়াসহ তিন গ্রুপে বিভক্ত। বহুধা বিভক্ত পটিয়ায় জেলা কমিটির সভা আহবানকে অনেকে দলীয় অদূরদর্শীতার বহিঃপ্রকাশ মনে করছেন। প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া এক নেতা যিনি এক সময় এনামের সাথে সুসম্পর্ক রাখলেও সম্প্রতি তিনি জুয়েল সাহেবের সাথে হাত মিলিয়ে পটিয়ায় এ সভার ব্যবস্থা করেছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: