চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি : একপেষে কমিটি করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র কর্মী সভায় হট্টগোল, হাতাহাতি, ভাঙচুর ও মারামারিতে ভন্ডুল হয়ে যাওয়ায় এক পক্ষের উপর অপর পক্ষ চটে আছেন। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। কর্মী সভার ব্যর্থতায় নাকোশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কর্মী সভায় মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনায় চট্টগ্রামের অনেক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে। কর্মী সভাকে ঘিরে অবৈধ অর্থ লেনদেন করে তড়িঘড়ি করে সমাবেশ করতে আগ্রহী হওয়াদের ভুমিকাকেও সন্দেহের চোখে দেখছে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খোন্দকার মোশারফ হোসেন।

এদিকে উত্তরের একদিন পর দক্ষিণের কর্মী সভাতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। এখানে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এনামুল হক চুরিকাঘাতে আহতও হয়েছেন। একদিন আগে হঠাৎ করে নগর থেকে দক্ষিণের কর্মী সভাটি পটিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার পিছনে রহস্য ও অবৈধ লেনদেনকে দোষছেন দল সংশ্লিষ্টরা। এমনিতে দক্ষিণ জেলার রাজনীতি অনেক জটিল ও কঠিন সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারউপর বহুধা বিভক্ত পটিয়ায় কিভাবে সভার ভেন্যু নির্ধারিত হয় সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ এখন সকলের কাছে। দক্ষিণের কমী সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য না দিয়েই তাই ফেরত চলে এসেছেন এবং এ জন্য জেলা নেতৃবৃন্দকে বিষেদাগার করেছেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। জনশ্রুতি রয়েছে পটিয়ায় এ সভা স্থানান্তরের জন্য প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পাওয়া এক নেতাকে ১০লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে জেলা বিএনপির এক নেতা। সে মোতাবেক তারা হামলা ও আক্রমণের সব রকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল যার বহিঃপ্রকাশ ঘটনার সময় মঞ্চের আশপাশ থেকে লাঠিসোটা বের করে আনার দৃশ্য। দক্ষিণ জেলার সমাবেশে যোগ দেয়া এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, হামলাটি পূর্ব পরিকল্পিত। নইলে মঞ্চের আশপাশ থেকেই এত দ্রুত সময়ের মধ্যে লাঠিসোটা বের হয় কি করে !

অপরদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কোন্দল নিরসন না করেই সেখানে জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ। উত্তর জেলা বিএনপি’র বর্তমান আহবায়ক ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক আসলাম চৌধূরীকে জেলে রেখেই ঐ পক্ষটি কমিটি বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধূরীর অনুসারীরা চাচ্ছেন আসলাম চৌধূরীর অনুসারীদের বাদ দিয়ে জেলা বিএনপি’র কমিটি করতে, সেজন্য তারা আসলাম চৌধূরীর জেলে থাকার সময়টিকে উত্তম বলে মনে করছেন। অন্যদিকে আসলাম চৌধূরীর অনুসারীরা চাচ্ছেন তাদের নেতা জেল থেকে বের হলেই জেলা কমিটি গঠন হোক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসলাম চৌধূরীর বিরোধীরা চট্টগ্রামের ঐ কেন্দ্রীয় নেতাকে ম্যানেজ করেই ইতোমধ্যে কেন্দ্রে একটি কমিটি সাবমিট করেছে। কেন্দ্রীয় ঐ নেতা দলীয় হাইকমান্ডকে এটা বুঝানোর চেষ্টা করছেন যে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি করা দরকার। তাছাড়া এক নেতার এক পদ থাকায় সেখানে আসলাম চৌধূরীর পূনরায় নেতা হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া ওনি জেল থেকে দীর্ঘদিন ছাড়া না পেলে সেখানে কমিটি না থাকলে দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বেন বলে তিনি হাইকমান্ডকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন।এ ছাড়াও তিনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে যেকোন একটি পদ আসলাম চৌধূরীর অনুসারীদের দেয়া হচ্ছে বলেও কেন্দ্রকে ধারণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা কেন্দ্রে একে অপরের প্রতি অভিযোগের তীর ছুড়ে মারছেন বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় কোন্দল নিরসণ না করে কমিটি দেয়া হলে তা আত্নঘাতি হবে বলেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: