মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়তো হবে: আভাস কাদেরের

ডেস্ক:  বর্তমান মন্ত্রিসভা অনেকদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে সরকারে রদবদলের আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়তো হবে। কারণ অনেক দিন হয়ে গেছে। তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এক সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আসছে কি না। এর জবাবেই তিনি এ কথা বলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোট নিয়েও সাংবাদিকরা জানতে চান ওবায়দুল কাদেরের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, রবিবার ঘোষিত এরশাদের জোটকে তিনি চমক হিসেবেই দেখছেন। আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এই চমকের রেশ শেষ হতে কত সময় লাগবে, সেটার জন্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি কয়েক বছর ধরেই মহাজোটে নেই। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট ভেস্তে গেছে। তারা এখন বিরোধী দলে, আবার সরকারেও আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক ভাঙাগড়া হবে। জোট ভাঙবে। জোট গড়বে। রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই।

বর্তমান মন্ত্রিসভা অনেকদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছে জানিয়ে চতুর্থবারের মত সরকারে রদবদলের আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়তো হবে। কারণ অনেক দিন হয়ে গেছে। তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সরকারে নতুন মুখ বা দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে তিন দফা।

২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হয় নতুন পাঁচ মুখ। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন একজন।

সেদিন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি তার আগের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।

একই দিন মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ নেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (খাদ্য)।

এরপর মন্ত্রিসভায় আরও একটি রদবদল হয়। সেটি চমকের তৈরি করে দেশজুড়ে। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই দিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফ পান তার নতুন মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: