একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি বানিজ্য বন্ধে কঠোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের তাগিদ ক্যাবের

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একাশ শ্রেণীতে ভর্তির নীমিতালা অনুসারে মফস্বল/পৌর উপজেলা এলাকায় ০১(এক) হাজার, পৌর জেলা সদরে ০২(দুই) হাজার টাকা, ঢাকা ব্যাতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ০৩(তিন) হাজার টাকার বেশী নেয়া যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ০৫(পাঁচ) হাজার টাকার বেশী নিতে পারবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত আংশিক ও এমপিও বর্হিভুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এমপিও বর্হিভুত শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য ভর্তি ফিস, সেশন চার্জ, উন্নয়ন ফিসসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯ (নয়) হাজার টাকা, ইংরেজী মাধ্যমে ১০(দশ) হাজার টাকার বেশী নিতে পারবে না। উন্নয়ন ফিস বাবত কোন প্রতিষ্ঠান ০৩ (তিন) হাজার টাকা বেশী অর্থ আদায় করতে পারবে না। বিগত ০৭ মে ২০১৭ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ভর্তিনীতিমালা উপরোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলেও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নামীদামি বেসরকারী কলেজ সমুহে বিগত বছরগুলিতে একাদশ শ্রেণীতে শির্ক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নীতিমালা উপেক্ষা করে ভর্তি ও উন্নয়ন ফিসের নামে শির্ক্ষাথীদের কাছ থেকে নিয়মবর্হিভুত ভাবে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডগুলি এ বিষয়ে কোন প্রকার নজরদারি ও তদারকি ছাড়াই কলেজগুলিকে এ ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ করে দিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে নৈরাজ্য সৃষ্ঠি করেছে। তাই একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এক বিবৃতিতে কলেজগুলিকে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির নীতিমালা কঠোর ভাবে মেনে চলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ভর্তিনীতিমালা অনুসরন করছে কিনা তা মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডর কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছর জনসংখ্যাবৃদ্দির সাথে সাথে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সরকারী কলেজগুলিতে আসন সংখ্যা বাড়ানো হয় না। ফলে শিক্ষার্র্থী ও তাদের অভিভাবকরা সরকারী ও খ্যাতনামা কলেজগুলিতে ভর্তির জন্য অশুভ প্রতিযোগতায় লিপ্ত হয়। এ সুযোগে একটি সুযোগ সন্ধানী চক্র যেমন কোচিং বানিজ্যে লিপ্ত হয়, তেমিন কলেজগুলি ডোনেশনসহ নানা উপায়ে ভর্তি বানিজ্যে লিপ্ত হয়। অভিভাবকরা সন্তানদের শিক্ষা জীবন হুমকিতে পড়বে এ আশংকায় কোন প্রতিকার চাইতেও পারে না। আর এ সমস্ত অনিয়মগুলি তদারিকর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষগুলি দিবা স্বপ্নে বিভোর হন। তাই সরকারী কলেজগুলিতে আসন সংখ্যা বৃদ্দির পাশাপাশি ভর্তি বানিজ্যে রোধে শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিতের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষা প্রশাসনে নজরদারির অভাবে ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে বেসরকারী স্কুলগুলিতে ভর্তি বানিজ্যে প্রচুর অনিয়ম ধরা পড়ে। অনেকগুলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে শাস্তির মাত্রা খুবই নগন্য। তাই এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকেও শাস্তির আওতায় আনা, প্রতিষ্ঠানগুলিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় কোচিং ও সহায়ক বই নিষিদ্ধ করার কথা বললেও সর্বত্রই কোচিং সেন্টার, ভর্তি কোচিং, সহায়ক গাইড বই নিয়ে লাইব্রেরীগুলিতে ভরপুর। কলেজগুলিতেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। সরকারী ও নামীদামী কলেজগুলিতে ভর্তির জন্য কোচিং ব্যবসা, ভর্তির সময় ডোনেশন, বিভিন্ন ফিস আদায় করে মধ্যবিত্ত সহ সকল নাগরিকদের মাঝে শিক্ষা অধিকারের পরিবর্তে একটি অতি খরচ নির্ভর পণ্যে পরিণত হয়েছে। একজন সাধারন নাগরিককে ভর্তি, টিউশন ফিস, বাই-খাতা ইত্যাদির নামে এতো খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে, যার ভারে মধ্যবিত্তের জীবন মরার উপর খারায় ঘাঁ যেন নিত্য সঙ্গী। ভর্তি, সেশন ও উন্নয়ন ফিস আদায়ের কোন সামনঞ্জস্যতা নেই, যে যার ইচ্ছামতো গলাকাটা ভাবে আদায় করে পকেট ভর্তি করছে।

নেতৃবন্দ আরো বলেন সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, বন্দর, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারী ও সায়ত্বশাসিত সেবা সংস্থা গুলি পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও একই ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে সাধারন ও ব্যাক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানে মতো বানিজ্যিক কর্মকান্ড পরিচালনা করলে অন্যান্য ব্যক্তি উদ্যোক্তাগন অবশ্যই জনগনের পকেট কেটে নিজের পকেট ভারী করবে। তাই তাদের এ ধরনের আচরন পরিহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: