পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরে চারশো কোটি টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগে লামায় সংবাদ সম্মেলন

এম বশিরুল আলম লামা, বান্দরবান : ৭মে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘বান্দরবানে ভুমি বেদখল সরেজমিন পরিদর্শনে বাধা একটি বাহিনীর ইন্ধনে’ শীর্ষক সংবাদে উল্লেখিত মিথ্যাচার ও অহেতুক একটি বাহিনীকে দোষারপের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে লামা উপজেলার নৃ-গোষ্টির লোকেরা।

১০ মে লামায় একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ¤্রাে নেতা রনি মুরুং। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৭ মে ঢাকায় ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য লিখিত বক্তব্যের আলোকে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘বান্দরবানে ভূমি বেদখল সরেজমিন পরিদর্শনে বাধা একটি বাহিনীর ইন্দনে’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে পঙ্কজ ভট্টাচার্য অহেতুক একটি বাহিনীকে দোষারপ করেছে এবং একটি বাঙ্গালী মহলকে সাম্প্রদায়িক বলে উল্লেখ করেছে। আমরা পাহাড়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়াও দৈনিক প্রথম আলোর কর্তৃপক্ষের কান্ডজ্ঞানহীন সংবাদ ছাপানোর বিরুদ্ধেও নিন্দা প্রকাশ করছি এবং ঐক্য ন্যাপের সভাপতিসহ ওই সংগঠনকে বান্দরবান জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ন-ৃগোষ্টির নেতারা জানায়, ‘ঐক্য ন্যাপের প্রতিনিধি দল লামায় আসার বিষয়ে আমরা কোন অবস্থাতেই অবগত ছিলাম না’। আমরা আমাদের পূর্ব কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র-গোলা বারুদ, অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজী ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী শান্তিবাহিনী তথা জে.এস.এস নামধারী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে অবরোধ কর্মসূচী পালনকালে ওই প্রতিনিধি দল অবরোধের মুখে পড়ে। যার কারণে তারা লামাতে প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা জানতে পেরেছি ওই প্রতিনিধি দল পাহাড়ী একটি শসস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের যোগসাজসে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪০ হাজার পার্বত্যবাসীর খুনি সন্তু লারমার ইন্দনে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মানসেই লামা আসছিল। এ ছাড়াও পঙ্কজ ভট্টাচার্য বিভিন্ন সময়ে জেএসএস নেতাদের সাথে হাত মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা এখনো প্রতি বছর ৪ শ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। পঙ্কজ ভট্টাচার্য রাজধানীর বুকে বসবাস করে জেএসএস সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে মোটাংকের মাসোহারা নেয়। তা না হলে তিনি কেন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মদদ দিবেন এবং পার্বত্য এলাকাকে বেসামরিকিকরণের দাবী জানাবেন। উনি কি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করেন? উনি পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর কষ্ট কি বুঝেন? ঢাকায় এসি রুমে বসে পার্বত্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলা আহাম্মকের কাজ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ইদানিং জেএসএস নামীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সংগঠনটি পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মুরুং যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দল ভারী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের মিথ্যা প্রলোভনে সাড়া না দিলে তারা অস্ত্রের মুখে মুরুংদেরকে তাদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করে। এ ছাড়াও তারা অন্যান্য জেলা থেকে লামা-আলীকদমের মত শান্তিপ্রিয় উপজেলায় এসে অস্ত্রের মূখে নিরিহ মুরুংদের তাদেরকে আশ্রয় দিতে বাধ্য করে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধান মন্ত্রীর গাড়ির পতাকা নেমে যায়। কিন্তু সন্তু লারমার গাড়ির পতাকা নামেনা। তাই তিনি পার্বত্যবাসীকে মানুষ মনে করেননা। ৭ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের সুবিধার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেসামরিকিকরণের দাবী জানিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এছাড়াও তিনি পূনরায় পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিচ্ছি।

সম্মেলনে আরো বলা হয়, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে হারে অস্ত্রের ঝনঝনানী বেড়েছে, তাতে সামরিক বাহিনী ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তোরণ কিছুতেই সম্ভব নয়। সামরিক বাহিনী থাকার কারণে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম অসাম্প্রদায়িক আবাস ভূমির মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে এবং এখানকার সাধারণ মানুষ নিরাপদে বাস করছে। সূতরাং আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আরো সেনা ক্যাম্প বাড়ানোর জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। আসুন আমরা এই ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী ও সাম্প্রদায়িক দালালদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি। সংবাদ সম্মেলন শেষে নৃ-গোষ্টির লোকজন প্রেসক্লাব চত্বরে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা আগুনে পুড়িয়ে তাদের মনের জ্বালা মেটায়। সংবাদ সম্মেলনে মংবুসে মারমা, মেনরুং মুরুং, মেনদং মুরুং, ইয়ংলক মুরুং, বীরচন্দ্র ত্রিপুরাসহ শ্ খানেক নৃ-গোষ্টির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: