কর্নফুলী জুলধা ইউনিয়নে মসজিদের জমি দখল ও বিক্রয়ের পাঁয়তারা

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধি বিধানে ওয়াকফ এস্টেটের জমি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ আছে এই ধরনের জমির রেওয়াজ বদল বা হস্তান্তর। কিন্তু মসজিদের ওয়াকফভুক্ত ৮৩ শতক জমি একটি প্রভাবশালী ভূমি চক্র বিক্রয়ের নামে লুটপাটের চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে কর্নফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের উত্তর ডাঙ্গারচর মহছনিয়া জামে মসজিদের ওয়াকফ জমি নিয়ে।এ নিয়ে জুলধা ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যসুত্রে জানা গেছে,১৯৫২ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় জুলধা ইউনিয়নের উত্তর ডাঙ্গারচরে মহছনিয়া জামে মসজিদ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মুতোয়াল্লী ছিলেন মহছন আলীর পুত্র আক্কেল আলী। আক্কেল আলী ১৯৭৮ সালে মৃত্যু বরণ করলে তার জৈষ্ঠ পুত্র নুরুল আলম মুতোয়াল্লী হিসেবে অদ্যাবধি উক্ত মসজিদ পরিচালনা করে আসছেন।

এলাকাসুত্রে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে একেএইচ নামক কোম্পানি “একেএইচ রিফাইনারি“ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জমি ক্রয় শুরু করলে মুতোয়াল্লী নুরুল আলম ও সেক্রেটারি রাজা মিয়ার সাথে কোম্পানির জমি ক্রয়ের মূল সমন্বয়কারী শিকলবাহার সৈয়দের পুত্র সিরাজের সাথে মসজিদের সাড়ে ৩ কানি জমির পরিবর্তে দ্বিগুণ জমি ৭ কানি কোম্পানির নিজ খরচে কিনে দেওয়ার চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয় বলে জানা যায়।

সেই অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল পটিয়া সাব রেজিষ্টি অফিসে বর্তমান মুতোয়াল্লী হাজী নুরুল আলম সাড়ে ৩ কানি জমি কোম্পানিকে রেজিষ্টি দিয়ে দ্বিগুণ জমি ৭ কানি মসজিদের জন্য কোম্পানি কিনে দেওয়ার কথায় উভয় পক্ষ উপস্থিত দলিল সম্পাদন করে দাখিল করতে গেলে ওয়াকফ এষ্টেট এর অনুমতি না থাকার অযুহাতে রেজিস্ট্রি হয়নি বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো জানা যায়, চুক্তি সম্পাদন দলিলে সনাক্তকারী হিসাবে জুলধা ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক আহমদ উপস্থিত ছিলেন । এর মধ্যে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে নতুন মোতোয়াল্লী হিসেবে আরেকটি পক্ষ হঠাৎ মাঠে উঠে পড়ে নেমেছে বলে জানান স্থানীয় জনগন।

একটি পক্ষ দাবি করে, দীর্ঘদিন অসুস্থ আবুল ফয়েজ নতুন মোতোয়াল্লী অথচ বিগত ৬৫ বছরে একদিনের জন্যও আবুল ফয়েজ মোতোয়াল্লী ছিলেন না বলে অপর পক্ষের দাবি।

এলাকাবাসী দাবি করেন, অনেকটা তাড়াহুড়া করে সভাপতি আবুল ফয়েজ ও তার ছেলে মোঃ ইসহাক সাঃসম্পাদক হিসাবে গত ৪ মে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সদর রেজিষ্ট্রি অফিসে ৬৯৫৪ নং বায়না মূল্যে ৮৩ শতক জমি রেজিষ্ট্রি দেন উক্ত কোম্পানিকে। দলিলসুত্রে যার মূল্য ২ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকার মধ্যে বায়না বাবদ প্রদান করেন ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।

বিশেষসুত্রে জানা যায়, সেই দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি বিষয়ে বৈঠকে বসেন কর্নফুলী থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হায়দার আলী রনি। এমনকি দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে ঐদিনের বৈঠকে তার নিজ বাসায় স্বাক্ষর করেন। সনাক্তকারী হিসাবে ছিলেন জুলধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক আহমেদ। যদিও ১৮ এপ্রিল রেজিষ্ট্রি না হওয়া দলিলের একই ব্যক্তি ছিলেন চেয়ারম্যান রফিক আহমদ।

অভিযোগ ওঠেছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জমির প্রকৃত মুল্য থেকে ভাগভাটোয়ারা হয়েছে থানা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতৃত্বের সিন্ডিকেটে।

অপরসুত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে জানাজানি হলে খবর শুনে দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে মসজিদ পরিচালনা করা মোতোয়াল্লী মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গনমাধ্যমকে জানান। এনিয়ে বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এমনকি দুপক্ষের মধ্যে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

গনমাধ্যমকে দেওয়া এক তথ্যসুত্রে জানা যায়, উল্লেখ্য সাড়ে ৩ কানি জমির পরিবর্তে দ্বিগুণ জমি অথবা ৭ কানি জমির মূল্য বাবদ ৭ কোটি টাকা দেওয়ার কথা হয় নতুন রেজিষ্ট্রি দেওয়া পক্ষের সাথে। এবং সেই টাকার জিম্মি নেয় কর্নফুলী থানা আ.লীগ সম্পাদক হায়দার আলী রনি।

এমনকি বর্তমান মুল্য হিসেবে ৮৩ শতক জমির মূল্য হওয়ার কথা ৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা অথচ বায়নায় উল্লেখ রয়েছে মাত্র ২ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা, ১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা কম। ধারণা করা হচ্ছে ৭ কোটি টাকা থেকে বড় ধরনের একটি টাকার অংশ আত্মসাৎ হতে পারে।

এ বিষয়ে কর্নফুলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল ও মেসেজ করা হলেও কোন উত্তর না দেওয়াতে বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

মসজিদের মোতওয়াল্লী হাজী নুরুল আলম জানান, জুলধা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সবকিছু জেনেও গোপন করে মসজিদের জমি বিক্রয়ে বড় ধরনের গাফলা করছে।

অপরদিকে কর্নফুলী উপজেলার ১নং (ক) জুলধা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক আহমেদ জানান,”তিনি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। তবে থানা আওয়ামী লীগের সাঃসম্পাদকের বাসায় একদিন বৈঠকে বসেছিলেন”। এ নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: