ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে চসিক-ওয়াসা চুক্তি সই

প্রতিবেদক:  ড্রেনেজ সিস্টেম ও স্যানিটেশন মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকালে চসিক কে বি আবদুচ ছাত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উভয় প্রতিষ্ঠানের এক যৌথ সমন্বয় সভায় মাস্টার প্ল্যানটি চুড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে।চুক্তিপত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে চেয়ারম্যান সৈয়দ এসএম নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেছেন।চুক্তি অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ড্রেনেজ সিস্টেম এবং ওয়াসা সেনিটেশন মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করবে।

যৌথ সমন্বয় সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, নানামুখী প্রতিকূলতার কারণে ১৯৯৫ সালে সিডিএ কর্তৃক প্রণীত ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের বৃহদাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিক বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবী। একই ভাবে ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা স্যানিটেশন মাস্টার প্ল্যানটি প্রণয়ন করে। কিন্তু অর্থাভাবে সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি। এতে করে ড্রেনেজ অব্যবস্থার কারণে নগরবাসী একদিকে জল-দুর্ভোগের শিকার। অন্যদিকে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় সমস্ত মলমূত্র,বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার কারণে নদী দূষণসহ নানামুখী পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন চট্টগ্রাম নগর। এ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা বিশ্বব্যাংকের অর্থ সহায়তায় মাস্টারপ্ল্যান দুটি হালনাগাদকরণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যায় আজকের চুক্তি সই ও দায়িত্ব নির্ধারণ অনুষ্ঠান।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্প পরিকল্পনা পত্রে উল্লেখ অনুসারে চট্টগ্রাম নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা মূলত বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী-হালদা নদীতে পতিত খাল,আভ্যন্তরীন সেকেন্ডারী খাল এবং রাস্তা পার্শ্বস্থ টারশিয়ারি ড্রেন নিয়ে গঠিত।এসব ভৌত বিষয়গুলোকে সমীক্ষায় রেখে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানটি প্রণীত হয়েছে। ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে ২২৮.৪০ মিলিয়ন ইউএস ডলার প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দায়িত্বের পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য খাত এবং ফিকেল স্লাজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে।তিনটি পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রথম পর্যায়ের (২০১৬-১৮)প্রাক্কলিত ব্যয় ১০.৭৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। দ্বিতীয় পর্যায়ের (২০১৮-২০২৩) প্রাক্কলিত ব্যয় ১৪২.৭২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।তৃতীয় পর্যায়ের (২০২৩-২০৩০) প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৫.০২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।এ পর্যায়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণ অংশ বাস্তবায়ন করবে। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্ল্যানের ডিপিপি তৈরি করে চসিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পেশ করবে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান একোয়া কনসালটেন্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট এবং ইনষ্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সহায়তায় ডেনমার্কের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান গ্রন্টমি এ/এস দীর্ঘ প্রায় ২ বছর সমীক্ষা চালিয়ে খসড়া মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। স্যুয়ারেজসহ স্যানিটেশন মাষ্টার প্ল্যান ও ড্রেনেজ মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে ২২ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার ব্যয় হতে পারে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ নির্ধারন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের সদস্যবৃন্দ মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কনসালটেন্ট সহ কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের নানান শ্রেণী ও পেশার নেতৃবৃন্দ সহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান এস এম সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রফেসর এ কে এম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রকল্প কনসালটেন্ট ড. খন্দকার আজহারুল হক সহ অন্যরা সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ মাষ্টার প্ল্যানের উপর বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: