বাংলা সাহিত্যে ভিন্নরসে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিভাময়ী প্রবাসী নারী লেখিকা মিলি সুলতানা

জে.জে জাহেদ : যেখানে প্রতিভা আছে, সেখানে বুদ্ধি আছে। যেকোন কাজ খুব সুন্দর ও সঠিকভাবে করার যোগ্যতাকেই প্রতিভা বলা হয়। বলতে গেলে প্রতিটি মানুষই জন্মগতভাবে প্রতিভাবান। কিন্তু পরিবেশগত কারনে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করে আবার কেউ করতেই চায়না। কারণ সব মানুষ সবকিছু সুন্দর ভাবে সঠিকভাবে করতে পারে না।

কিন্তু মিলি সুলতানার বেলায় বলা যায়, সত্যিই তিনি সৃষ্টিগত আর স্বমহিমায় প্রতিভাতে উজ্জ্বল। লেখিকা মিলির কবিতা আর গল্প সাজানো অত্যান্ত সাবলীল আর সহজ ভাষায় ভেতরের আকুতি মেশানো সত্যের মোড়ল। যে কাউকেই তার সাহিত্য সৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। কারন প্রতিভা থাকলে জ্বলে ওঠে যে কোন মানুষ।

মিলি সুলতানা তার সৃষ্টিশীল লেখনশৈলী এবং উৎফুল্লতা নিয়ে কাব্য সাহিত্যের সব দরোজায় কড়া নেড়েছেন। সাহিত্যজ্ঞান উত্তম ভাষাশৈলীর সহজ প্রকাশভঙ্গী নিজস্ব চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটাতে পেরেছেন খুব সাবলীলভাবে। সাহিত্য লেখায় হাত দেওয়া যেমন কঠিন তেমনি অধিক ধৈর্য্যের প্রয়োজন কবিতা তৈরিতে।

একত্রিত শব্দ বিন্যাস যেমন কবিতা হয়না,তেমনি পাঠকের মননে স্থান না পেলে কাব্যরস ও সফল হয়না। কিন্তু মিলি সুলতানার পুরাপুরি সফল আর সত্য। যিনি কবিতা গঠনে সচল পারদর্শিতা দেখিয়েছে বেশ তার একাধিক বইতে। মিলি সুলতানার শব্দ নির্বাচনটা এতোটাই যৌক্তিক না পড়লে কেহ জানতেই পারবেনা।সকল পাঠকের উচিত অপঠিত মিলির সৃষ্টি কবিতার বই পড়া।

মিলি সুলতানা একাধারে লেখক ও কবি সাহিত্যিকা হিসাবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। আজকের সূর্যোদয় গ্রুপের তার সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু। যার হাত ধরে দেশে অগনিত সাংবাদিক উজ্জ্বল। বর্তমান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদও আজকের সুর্যোদয়ের সৃষ্টি। চট্রগ্রামের বর্ষিয়ান বরণ্য সাংবাদিক জুবায়ের সিদ্দিকী ও। এরপর খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সে সাংবাদিকতা করেছেন। খবর গ্রুপের সাপ্তাহিক মনোরমা, দৈনিক আজকের কাগজ, চট্রগ্রামে প্রচারিত দৈনিক পূর্বকোণ ও আজাদীতে ছোটগল্প লিখতেন প্রায়।

তিনি একজন সমাজ সচেতন সাম্প্রতিক বিষয়ে ধারালো কলাম লেখকও। গদ্য লেখক হিসেবে লেখিকার খ্যাতি আছে। মানব জীবনের লুকানো বাস্তব হাসি,কান্না, দুঃখ, কষ্ট আর আবেগ অকপটে তুলে ধরেন তার নিজস্ব লেখকসত্ত্বা দিয়ে। যা অন্য সবাই পারেনা। লেখিকা মিলি সুলতানা তার কলম দিয়ে সমাজের অন্ধকার পরিবেশে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন। তার লেখা অসংখ্য শক্তিশালী গল্পের মধ্যেই সেটা প্রমাণিত।

এই পর্যন্ত তার ১৮ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধশিশু, স্বপ্নের মল্লিকা(আগামী প্রকাশনী), অন্তরে আছ তুমি, ওগো সুকন্যা, খুঁজে পাবেনা নীল সীমানা, কোয়েলের মধুপূর্ণিমা, অলৌকিক ক্ষুধা, ফুলেশ্বরী, মধুরিমা(বিশ্বসাহিত্য ভবন), অন্ধকারের হায়েনা(মিজান পাবলিকার্স), দেহকর(জাগৃতি প্রকাশনী), অন্তরে আছ তুমি(আফসার ব্রাদার্স), এপারে আমি রাধা ওপারে তুমি, সোনার টিকলি নয় মাধবীলতার গুচ্ছ, কংকালের সাথে একরাত(অনন্যা প্রকাশনী) ইত্যাদি মিলি সুলতানার সুখপাঠ্য গল্প উপন্যাস ও কবিতার বই।

গত বইমেলায় তাঁর কাব্যগ্রন্থ সোনার টিকলি নয় মাধবীলতার গুচ্ছ ও হরর গল্পের বই কংকালের সাথে একরাত অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। হরর গল্প কংকালের সাথে একরাত পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত আর আলোচিত সাহিত্য।

যেকোনো প্রেক্ষাপটে তিনি মানানসই গদ্য পদ্য উপহার দিতে জানেন। যেকোনো কাব্যে ইচ্ছা আক্ষাংখা আবেদন নিবেদন থাকা অতি জরুরী। কিন্তু অনেক কবি সেটা গ্রাহ্য করেন না। তারা তাদের বক্তব্য ফুটিয়ে তুলতে পারেন না। বইতে তিনি কি প্রকাশ করতে চান মনের ভেতর হতে। এখানেও লেখিকা হিসেবে মিলি সুলতানা ব্যতিক্রমী ধারায় অবস্থান করছেন। বৈচিত্র্যময় সাহিত্য রচনা করে সাহিত্য সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। নতুনদের আগ্রহী হতে প্রেরণা যুগিয়েছেন।

বলতে দ্বিধা নেই এমন সব লেখকরাই পারবেন আমাদের কাব্য সাহিত্যের ঝিমিয়ে পড়া জগতকে গা ঝেড়ে দাঁড় করিয়ে দিতে। প্রযুক্তি নির্ভর আজকের দুনিয়ায় বই নিরুদ্দেশ।তারপরেও মিলি সুলতানা তার গল্প উপন্যাস কবিতা প্রবন্ধ লিখে একটা নিজস্ব ভীত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের লেখকদেরকে আগ্রহী করে তুলেছেন। লিখেছেন অসংখ্য ছোটগল্প যেগুলো ঢাকার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মিলি সুলতানার লেখার ধাঁচ অনুমান করা যায় খুব সহজভাবে।

লেখনশৈলী দিয়ে একজন লেখক যেমন একদিকে ধারণ করেছেন অবহেলিত গ্রামীণ জীবনবোধকে। অন্যদিকে অত্যন্ত গতিশীল উপায়ে প্রকাশ করেন ঘটমান নগরজীবন। ছোটগল্পের নাতিদীর্ঘ পরিসরেও এই জটিলতাকে তিনি তাঁর বিশিষ্ট গদ্যরীতির সামর্থ্যে পেরেছেন সম্পন্নভাবে ধারণ করতে। আর এখানেই একজন পরিপূর্ণ লেখকের সার্থকতা। নিজে সংবেদনশীল নারী বলে গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনে নারী-মনস্তত্ত্বের স্বাতন্ত্র্যকে পেরেছেন উপলব্ধি করতে। বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনপ্রবাহকে একেবারে সন্ধিস্থল থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি।

বৃষ রাশির জাতিকা মিলি সুলতানার জন্মস্থান কুমিল্লা। জন্মতারিখ ১১ই মে। বাবা একেএম মোক্তাল হোসেন বৃটিশ ফার্মে চাকরী করতেন। মা মালেকা বেগম। আট ভাইবোনের মধ্যে তার স্থান সপ্তম। পড়াশুনা করেছেন আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজে। গ্রাজুয়েশন শেষ করে লেখালেখির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ৯৬ সালের ২রা মে স্বামী রফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়। ব্যক্তিজীবনে পিয়াল(১৮) নেহা(১২) নামে দুই সন্তানের জননী। বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।

লেখিকা মিলি সুলতানার প্রিয় লেখকের তালিকায় রয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হক, জীবনানন্দ দাশ, সমরেশ মজুমদার,বিশ্বকবি রবি ঠাকুর,এছাড়াও জাফর ইকবাল স্যারও লেখিকার পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে। খুব সহজ সরল আর সাদা মনের মানুষ মিলি সুলতানা।

বিলাসিতা আর অপ্রয়োজনীয় কথা একদম পছন্দ করেন না।সময়ের স্রোতে জীবনের নিগুঢ় বন্ধনে মনের তৃপ্তি আর গনমানুষের জীবনের কষ্ট ফুটিয়ে তোলতে সাহিত্য জগতে পদার্পণ মুলত। লেখিকা বলেন,”কাউকে কষ্ট বা কিছু পাবার আশায় কোন কবি ও সাহিত্যিকের কলম চলেনা,মনের আত্ব ক্ষুধা নিবারনে সামাজিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: