চট্টগ্রামে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিম্ন মানের বিস্কুট

কে. ডি. পিন্টু : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিম্ন মানের বিস্কুট। বিস্কুট গুলো ঠিক কোন পরিবেশে কি ভাবে তৈরি হচ্ছে তা সাধারন মানুষের বোধগম্য নয়। খোলা বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন ও স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর এসব বিস্কুট অসচেতন গ্রাহকেরাই কিনে থাকেন। নিম্ন শ্রেনীর গ্রাহকেরা এর ক্রেতা বিধায় অনেকেই খবর রাখেনা এগুলো কি দিয়ে তৈরী এবং কোথায় হতে আসে এসব বিস্কুটের নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যাগ ও বস্তায় ভরে হাট বাজার ও রাস্তার ধারে উম্মুক্ত স্থানে ধুলোবালিতে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে বিস্কুটের গুনাগুন যাচাই না করে কমদামে বেশি বিস্কুট পাওয়ায় সাধারন মানুষ এই বিস্কুট কিনতে হুমরি খেয়ে পড়েছে। তাতে করে এলাকার সাধারন মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে। এসব বিস্কুট স্বাস্থ্যকর নাকি অস্বাস্থকর তা জানেনা নগরীর অধিকাংশ মানুষ। সরো জমিনে দেখা যায় নগরীর নতুন ব্রীজ এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০টির মতো ভাসমান খোলা বিস্কুটের দোকান রয়েছে। তা ছাড়া ঐ এলাকাতে বড় বড় কয়েকটি বিস্কুটের আড়ৎ রয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা ঐ সকল গুদাম থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্কুট কিনে বিভিন্ন হাট বাজার এবং ভ্যানে করে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে দেদারসে বিক্রি করছে।

এ সকল বিস্কুট ঠিক কবে উৎপাদন করা হয়েছে মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কিছুই বস্তার গায়েও উল্লেখ নেই। আর বিএসটিআই’র নামে যে সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারও কোন অনুমোদন নাই। বিশেষ করে ঐ এলাকাটি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ন বাসষ্টেশন হওয়ায় দুরদুরান্ত থেকে আগত যাত্রীরা কোন কিছু যাচাই বাছাই না করে খোলা বিস্কুটের দোকানে গিয়ে বিস্কুট ক্রয় করে। প্রতি কেজি বিস্কুটের মুল্য ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ সব বিস্কুট কোন বেকারী কোথায় থেকে আসে জানতে চাইলে কয়েকজন বিক্রেতা জানান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক ভর্তি করে টোস্ট, চিনি টোস্ট, ড্রাই কেক, পাইন্ড বিস্কুট, বেলা বিস্কুট, সুপার বিস্কুট, মিস্টি বিস্কুট, বাদামী মিস্টি বিস্কুট, সলটেজ বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের ঝাল ও মিষ্টি চানাচুর সহ বড় বড় পলিথিনের ব্যাগভর্তি চট্টগ্রামে আসে বলে জানান কয়েকজন বিস্কুট বিক্রেতা।

অনুমোদন ছাড়া খাবার দ্রব্য কি ভাবে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রকাশ্যে বিক্রয় হয়। তা জন সাধারনের প্রশ্ন। তা ছাড়া সরোজমিনের আরো দেখা যায়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ানহাট মোড়, নিউ মার্কেট, আন্দরকিল্লা, চকবাজর, ফ্রিপোর্ট, নিউমুরিং রোড, কলসি দিঘী রোড, বন্দরটিলা, বহদ্দারহাট, ফকিরহাট, অলংকার, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন রাস্তায় এবং দোকানের পাশে এ সব বিস্কুট অহরহ বিক্রি হতে দেখা যায়। বিশেষ করে নিউমুরিং ও কলসি দিঘী রোডে বড় বড় কিছু বিস্কুটের আড়ৎ চোখে পড়ে। চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থিত বিভিন্ন বেকারী হতে অহরহ তৈরী হচ্ছে এ সব ভেজাল রং, বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও তৈরি হয় এ সব ভেজাল নিম্ন মানের বিস্কুট, চানাচুর, যা জনস্বাস্থ্যর জন্য মারাত্মক হুমকি।

প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টিতে এ ভেজাল দুরীকরন সম্ভব হলে বলে সচেতন মহলের দাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: