চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষার্থীকে হাতকড়া, ওসিকে তলব

ডেস্ক:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের সময় আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের বিছানায় গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া লাগানোর ব্যাখ্যা দিতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ বিষয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।

আগামী ৩১ মে সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে হাজির হয়ে ওসিকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

গত ২৬ মে ভোর ৫টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান রানা ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরাফাত নিহত হন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হন ৪২ শিক্ষার্থী। আহত হন অনেকে। পরে ৪২ শিক্ষার্থীর জামিনও হয়।

এদিকে, আহত এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সোমবার একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘হ্যান্ডক্যাপড টু হসপিটাল বেড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন আহত হওয়ার পর তাঁর বন্ধুরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। যেখানে হাসপাতালের বেডের সঙ্গে তাঁর এক হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে। খাওয়ার সময় হ্যান্ডকাফ খুলে দিতে অনুরোধ করলেও পুলিশ তা খুলে দেয়নি।’

এ প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

পরে আইনজীবী রেজাউল করিম বলেন, প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের পর আদালত এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তলব করেছেন। পাশাপাশি রুলও জারি করেছেন। রুলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া পরানো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন।

রুলের বিবাদীরা হলেন স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকার পুলিশ সুপার ও আশুলিয়া থানার ওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: