বাইপাস সড়কের সেতু নির্মাণে ধীরগতি, পটিয়ায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতে বন্যা, ১৫০ বাড়ী ঘর পানিতে নিমজ্বিত

সনজয় সেন.পটিয়া সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কের সেতু নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারনে শ্রীমতি খালের ভাঙ্গনে ২ শতাধিক ঘর বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বুধবার সকালে পটিয়া উপজেলার পূর্ব ভাটিখাইন স্টীল ব্রীজের পাশে বাইপাস সড়কের নির্মিতব্য সেতুর দু পাশে শ্রীমতি খালের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় শতাধিক মাছ চাষের পুকুর ডুবে গিয়ে এবং ঘর বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, বাইপাস সড়কের শ্রীমতি খালের উপর নির্মিতব্য সেতুটির কাজে ধীরগতি এবং সেতুর দুপাশের বাঁধ কেটে পেলায় খালের পানিতে তলিয়ে গেছে দু শতাধিক ঘর বাড়ি। এদিকে বুধবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শণ করেছেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও পৌরসদরের ৩নং ওয়ার্ড সুচক্রদন্ডী রামকৃষ্ণমিশন রোড, ৪নং ওয়ার্ড গাজীর বাড়ি, বাকখালি সড়ক গত দুদিনের ভারি বর্ষনে পানি জমে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পটিয়া পৌরসদরের ইন্দ্রপুল হতে উপজেলার কচুয়াই গিরিশ চৌধুরীর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক। মাঝখাইনে ছোট বড় ১৫টির অধিক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় যে সেতু হচ্ছে শ্রীমতি খালের উপর পূর্ব ভাটিখাইন স্টীল ব্রীজের পাশে। এ সেতুটি নির্মাণের জন্য শ্রীমতি খালের বাঁধ কাটা হলেও গেল কয়েকদিনের ঘূর্ণিঝড় এবং বারি বৃষ্টির পরও সেতুটির দু পাশের বাঁধটি সংস্কার করেনি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। যার কারনে গতকাল বুধবার সকাল থেকে সেতুর দু পাশে শ্রীমতি খাল ভেঙ্গে দু শতাধিক ঘর বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও পোনা এবং মাছ চাষের পুকুর ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ শ্রাীমতি খালের পানিতে পূর্ব ভাটিখাইন এলাকার দু শতাধিক ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেসব পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্থ আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে ডাকাত আখ্যায়িত করে বলেন, সেতুর নির্মানের ঠিকাদারকে বলা হয়েছিল ১ হাজার বস্তা জরুরী ভিত্তিতে মাঠি দেয়ার জন্য। এতে অপাতত ভাঙ্গন রক্ষা যেত। এত মানুষের ঘর বাড়ি ক্ষতি হত না। কিন্তু তারা সেটি করেননি। যার করনে বিশাল ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে হচ্ছে আমাদের।

ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মো. বখতিয়ার বলেন, বাইপাস সড়কের জন্য শ্রীমতি খালের উপর নির্মিত সেতুর দুপাশে বাঁধ কাটা হলেও তা দ্রুত সংস্কার না করার কারনে খালের পানিতে প্লাবিত হয়ে ঘর বাড়ি এবং পোনা চাষের পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় আনুমানিক ৫০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

পটিয়া বাইপাস সড়ক প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া বলেছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির কারনে শ্রীমতি খালের পানিও বেড়ে যায়। যার কারনে বাইপাস সড়কের জন্য নির্মিতব্য সেতুর দু পাশে পানি ঢুকে গেছে। নির্মাণ শেষে সেতুর দু পাশের বাঁধ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়া হবে। সেতু নির্মাণ কাজের ধীরগতির যে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা তা সঠিক নয়। সেতুটি নির্মাণ কাজের যে সময় দেয়া হয়েছে তা এখনো শেষ হয়নি।
অন্যদিকে এক দিনের ভারি বর্ষনে পটিয়া পৌরসদরের ৪নং ওয়ার্ড গাজীর বাড়ি ও বাকখালি সড়কে বাইপাস সড়কের কারনে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় বিক্ষোদ্ধরা বাইপাস সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে কেটে দিলে পরে পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়াও পৌরসদরের ৩নং ওয়ার্ড রামকৃষ্ণমিশন সড়কে হাটু পানি জমে ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
সুমা বিশ্বাস নামে এক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, একটু র্বষ্টি হলে আমাদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটি হাঁটু থেকে গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। কিন্ত পৌর কর্তুপক্ষ বিগত দিন যাবৎ কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করেননি। যার কারনে স্কুলে চলাচল করতে আমাদের অসুবিধার ¯ম্মুখীন হতে হয় তাচাড়া কাপড়-ছোপড় এবং এবং বই কাতা পানিতে অনেক সময ভিজে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: