সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে মানবতা’র ঈদ বস্ত্র বিতরণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা হাসলে হাসে একঝাঁক তরুণ । শুরুটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। এক ঝাঁক বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ পড়ুয়া তরুণ একটি গ্রুপ তৈরী করে। গ্রুপের নাম দেয় ‘মানবতা’। এখানে রয়েছে নানা বয়েসী এক ঝাঁক সমব্যথী ও সমমনা মানুষ। যেন সব অসহায়ত্ব এবং দুঃখকে ঘোচানোর চেষ্টা সারাক্ষণ। তাঁদের কার্যকলাপ দেখে বুঝা যায়, আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। ষোলো আনাই তাঁরা দিতে চায় অন্যকে ভালো রাখার জন্য। গ্রুপে তারা কথোপকথন করে সিদ্ধান্ত নেয় মানবতার কল্যাণে কিছু করার। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও তারুণ্যের উদ্যোম নিয়ে যাত্রা শুরু করে মানবতা সংগঠনটি। প্রথমে সাধারণ মানুষের জন্য রক্তের ফেরারি হিসেবে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।

এ ফইসবুক কিংবা ফোনে যখন যেখান থেকে ফোন করে মানবতার সংগঠনটি সেখানে ছুটে যায় রক্ত দিতে। পরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও বিভিন্ন উৎসবে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর কাজে নিয়োজিত হয় সংগঠনের সদস্যরা। সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসবে ঈদ উপলক্ষে হাটহাজারীর রেলস্টেশনে ৬০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নতুন কাপড় দিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২১ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম হাটহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে ঈদের উপহার তুলে দেয় এ সংগঠনের কর্মকর্তারা। দুই দিন আগেও কিন্তু তারা জানতো না ঈদে অন্য শিশুদের মতো তারাও নতুন কাপড় পড়তে পারবে কিনা। কিন্তু সব কল্পনাকে শেষ করে তাদের হাতে যখন নতুন কাপড় দেয় আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছে এসব শিশুরা। হাসান, জুলি, ইবা, নয়নসহ অসংখ্য শিশুদের মুখে নতুন কিছু জয়ের ছবি।

ঈদবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী প্রেসক্লাবের সভাপতি কেশব কুমার বড়ূয়া, মানবতার প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, উপদেষ্টা ব্যারিস্টার বদরুল আলম, কাটিরহাট মহিলা কলেজের শিক্ষক নাছির উল্লাহ, সংগঠনের সভাপতি শহীদুল্লাহ সজীব, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সাজ্জাদ, জিয়া উদ্দিন মিজান, সহ সভাপতি তৌহিদুল আলম, মঞ্জুরুল হোসেন, মোরশেদুল আলম, জাহেদা আক্তার টুম্পা, সোমা আক্তার, ফয়সাল বিন আলম, মো.মনছুর, রিয়াদ হোসেন, সাখাওয়াত ইসলাম, আল মান্নান, তৌয়াবুল আজম, আবীর মাহমুদ প্রমুখ।

গ্রুপের অপর উপদেষ্টা বদরুল আলম বলেন, মানবতার ডাকে সাড়া দেয়া কিছু মানুষের সংগঠন। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যাঁদের ব্রত। সংগঠনটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে ঈদে নতুন বস্ত্র বিতরণের কাজ। মানবতার উদ্যোগে পথশিশুদের ঈদের জামা উপহার দিয়ে থাকে। ঈদের জামা বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করে। যেমন : বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পথশিশুদের নাম-ঠিকানা, বাবা-মার নাম, তাদের জামাকাপড়ের মাপ ও নিজেদের পছন্দের কথা জেনে ডাটাবেজ তৈরি করে। এসব শিশুদের কাছে টোকেন দিয়ে আসে। পরে সেই ডাটার ভিত্তিতেই নতুন জামা কেনা হয় এবং টোকেন দেখানোর পর তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় সেই ঈদ উপহার।

ফেসবুকের মাধ্যমে যাত্রা : জানা যায়, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন হিসেবে ২০১৬ সালে ফেসবুক গ্রুপ ‘মানবতা’ যাত্রা শুরু করে। ফেসবুকে কবিতা ও সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের পথ ধরে এগিয়ে যেতে গিয়ে মনে হলো, মানবতার কল্যাণে কিছু করা দরকার। সেই ভাবনার প্রতিফলন ‘মানবতা’।

তহবিল সংগ্রহ ও কর্মপরিকল্পনা : মানবতার রয়েছে ৫০-এরও বেশি সক্রিয় সদস্য। নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সব সদস্য কাজের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমে সদস্যরা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমগুলো সবার কাছে তুলে ধরেন এবং মন্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। মানবিকের তহবিল গঠিত হয় সদস্যদের চাঁদা ও অর্থসাহায্যের মাধ্যমে। সদস্যদের মধ্যে ছাত্ররা প্রতি মাসে ৫০ টাকা ও পেশাজীবিরা ১০০ টাকা করে চাঁদা দেন। চাঁদার পাশাপাশি যে কোনো প্রয়োজনে প্রতিটি কার্যক্রমে সদস্যরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: