গণপরিবহন খাতে ভোক্তাদের ক্ষমতায়ন না হলে নৈরাজ্য বন্ধ হবে না: ক্যাব

প্রেস বিজ্ঞপ্ত: খাদ্যে ভেজাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের উর্ধ্বগতিসহ নানা বিষয়ে ভোক্তারা প্রতারনা ও ভোগান্তির শিকার হলে জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অতি সহজে ও দ্রুত ভোগান্তির প্রতিকার পাওয়ার বিধান থাকলেও গণপরিবহন খাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা এ সেক্টরটি জিম্মি করে রেখেছেন। যার কারনে আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন কমিটি যারা জেলা পর্যায়ে গণপরিবহন নিয়ে নীতি নির্ধারন করে থাকেন সেখানে ভোক্তাদের কোন প্রতিনিধি রাখা হয় না। আর গণপরিবহন খাতে ভোগান্তির কথা ট্রাফিক ও বিআরটিএকে জানানোর সুযোগ থাকলেও সেখানে সাধারন ভোক্তাদের প্রবেশগম্যতা একবারে নেই। অন্যদিকে প্রচলিত আইন থাকলেও তার নেই যথাযথ প্রয়োগ। সেকারনে গণপরিবহনে ভোগান্তির মাত্রা দিন দিন বাড়ছে এবং এ খাতে ভোক্তাদের হয়রানি ও ভোগান্তির বিষয়ে প্রতিকার পাওয়া সোনার হরিন হয়ে আছে। ২১ জুন নগরীর চট্টগ্রামে একটি হোটেলে বিশ্ব ব্যাংকের আরবান ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে পরামর্শক টিমের প্রধান মিঃ কলিন ব্রাডার এর সাথে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম মতবিনিময় কালে উপরোক্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব ব্যাংক পরামর্শক টিমের কাছে চট্টগ্রামে নগরীর গণপরিবহন সমস্যা ও তার সমাধানে ক্যাব যে সমস্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন সেগুলো হলো; আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন কমিতিতে ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নগরীতে আন্তঃজেলা বাস ও ট্রাক টামিনাল তৈরী, কক্সবাজার-বান্দারবান, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি ও নোয়াখালী-কুমিল্লা অভিমুখী বাসের জন্য নগরীর বাইরে পৃথক বাস টার্মিনাল স্থাপন করা, গণপরিবহনে জড়িত শ্রমিকদের জন্য ট্রাফিক আইন ও যাত্রীদের সাথে আচরন বিষয়ে মানসম্মত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে ত্রুটি ও অনিয়ম মুক্ত করা, ভোক্তাদেরকে গণপরিবহন আইন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, যাত্রী হিসাবে হয়রানি হলে তাৎক্ষনিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ২ শতাংশ জনগনের ব্যবহার উপযোগী উডাল সেতু নির্মানের পাশাপাশি ৯৮ শতাংশ জনগনের ব্যবহারের জন্য নগরীর সড়কগুলির উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্ধ রাখা, বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করে সড়ক উন্নয়ন, সংস্কার করা ও উড়াল সেতু নির্মান, গণপরিবহন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংস্কার ও কঠোর ভাবে প্রয়োগে করা এবং আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় নাগরিক পরিবীক্ষন জোরদার, যত্রতত্র পার্কিং, ওভারটেকিং বন্ধ, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ ও অধিক মুল্য আদায় বন্ধে তদারকি জোরদার, লক্কর যক্কর বাসগুলির আধুনিকায়ন ও গণপরিবহনের আওতায় গাড়ী গুলির জন্য একক সমিতির আওতায় আনা, নগরীতে অনুমোদিত গাড়ীগুলির মান পর্যবেক্ষনের পাশাপাশি নির্ধারিত সড়কে গাড়ীগুলি চলাচল করছে কিনা তা নজরদারি করা, মিটারে সিএনজি চালানো নিশ্চিত করা, টার্মিনালগুলিতে যাত্রীদের বিশ্রামাগার, টয়লেটসহ যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করা, যাত্রী পরিবহনে নগরীতে ডেমু রেল সার্ভিস চালু প্রবর্তন, গণপরিবহনে নারী হয়রানি রোধে শ্রমিকদের জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষন প্রদান, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের সহজে প্রবেশাধিকার সক্ষম গণপরিবহন গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।

ক্যাব প্রতিনিধি দলে ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগর যুগ্ন সম্পাদক এ এম তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ এবং ওয়াল্ড ব্যাংক পরামর্শক টিমের সাথে ছিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার সানজির আলী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: