চকরিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ৩লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী: আভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা,চকরিয়া,কক্সবাজার : কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা ভারি বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানির নিচে নিমজ্জিত। পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে তিন লক্ষাধিক জনগোষ্টি। বিভিন্ন অভ্যান্তরিন সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।৪জুলাই মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে উপজেলার আঠার ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশির ভাগ নীচু এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে ডুকে পড়েছে।পাহাড়ী ঢলে পানির তোড়ে পড়ে পৌরসভার দিগরপানখালী এলায় ছয়টি বসতবাড়ী মাতামুহরী নদীতে তলিয়ে যায়।এতে করে বর্তমানে উপজেলার তিন শতাধিক গ্রামের তিনলক্ষ জনসাধারণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কোচপাড়া, খোয়াজনগর ও ১নং গাইডবাধ এলাকার মো: জসিম উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন ড্রাইভার, মো: আবু তালেব, মোজাম্মেল হক, মৃত দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি, নুর মোহাম্মদ প্রকাশ সাদ্দাম মেস্ত্রী, সাহাবউদ্দিন-২, আমির হোসেন, গুরা মিয়া, নুরুল হোসেন, ছৈয়দ আহমদ,ছৈয়দ নুর, নুরুল কাদের, আবদুল গনি ও আলী আহমদের বাড়ি। এছাড়াও সাংবাদিক আবদুল মতিন চৌধুরীর বাসভবন আপন নিবাস নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানিয়েছেন, টানা ভারী বর্ষণের কারনে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। পানির প্রবল স্রোতে তাঁর ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। গতকাল দুপুর নাগাদ সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের চারভাগের তিনভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বলে জানান। কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত উসমান জানান,ভারী বর্ষণের কারনে নদীতে ঢলের পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তাঁর ইউনিয়নে নদীর তীরবর্তী বেশির ভাগ এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যে বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামার কারনে পৌরসভার ৮নম্বর ওর্য়াড়ের কোচপাড়া এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুকে পড়ে এবং একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। দুপুর থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ হাজার জনসাধারণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি ৯নং ওয়ার্ডের দিগরপানখালী নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়া ৬টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের খোজ খবর নেন এবং এজন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করেন।

উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের ফলে তাঁর ইউনিয়নের বেশিরভাগ নীচু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলার চিংড়িজোনের হাজার হাজার মৎস্য প্রকল্পপানিতে তলিয়ে যাবে। এতে ঘের মালিক ও চাষীদের হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতিসাধনের আশঙ্কারয়েছে।

উপজেলার উপকুলীয় বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বশর ও কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানিয়েছেন, মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল ফলে গতকাল বিকাল থেকে বিভিন্ন শাখাখাল ও স্লইচ গিয়ে দিয়ে তাদের ইউনিয়নে লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। ইউনিয়নের অধিকাংশ নীচু এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে। উপকুলের বিস্তীর্ণ মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীতে ঢলের পানি গতি বাড়বে। এ অবস্থায় উপকুলের একাধিক বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি মৎস্য প্রকল্প সমুহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তাঁর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বরইতলী, পঁহরচাদা, মছনিয়াকাটা, ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদা, শান্তি বাজার, পহরচাঁদা অংশে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকছে ঢলের পানি। দুপুর থেকে ইউনিয়নের বেশির ভাগ নীচু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে প্রায় ৩হাজার পরিবার পানি বন্ধী রয়েছে। পুরাতন বানিয়ারছড়া পহরচাদা পেকুয়া সড়কে গাড়ী চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন,টানা ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি এবং অব্যাহত বৃষ্টিতে নদীতে পানির গতি বেড়ে যাওয়ার কারণে দুপুরের দিকে ইউনিয়নের খুরিল্যার কুম এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়ে যায়। তলিয়ে গেছে হাজার একর কৃষকের ফসলি জমি।পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দশ হাজার জনসাধারণ। ইউনিয়নের সাথে চকরিয়া শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপরে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাহেদুল ইসলাম বলেন,বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষথেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।শুকনো খাবারের চাহিদা চেযে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।ইতিমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।প্রশাসনের লোকজন সার্বক্ষনিক নজর রাখছে। তিনি আরো বলেন, বন্যা দূর্গত এলাকার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রাথমিকভাবে ১লাখ বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। উক্ত টাকা দিয়ে চিড়া, মুড়ি,গুড়সহ খাবার সামগ্রী ক্রয় করে বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্ঠন করে দেওয়া হয়েছে। আজ জেলা প্রশাসক মহোদয় পরিদর্শন আসবেন এবং বন্যা কবলিত এলাকার সাহায্যের বিষয়টি তিনি দেখবাল করবেন বলে জানান।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে বিকাল তিনটা নাগাদ নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দুপুরে উপজেলার বিএমচর খুরিল্যারকুম এলাকা ও পৌরসভার কোচপাড়া এলাকাসহ বেশ কয়েকটা জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। পানি কমে গেলে ভাঙ্গনকৃত এলাকাসমুহ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের গাফেলতির কারণেই নদী ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি বিলীন হচ্ছে বলে দাবী পৌর মেয়র আলমগীরের : চকরিয়া পৌরসভার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা ও মাতামহুরী নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী। তিনি ৪জুলাই পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, পৌরসভার ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের চরম গাফেলতির কারণে বন্যা শুরু হওয়ার পূর্বে দীর্ঘ কয়েক মাসেও নির্মিত ব্লক নদীতে বসানো হয়নি। যার কারণে নদী ভাঙ্গনে দিগরপানখালী গ্রামের ৬টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। যথাসময়ে ব্লক বসানো না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্ধ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কি ছিল। জনগণের কল্যাণেই এসক বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দাড়িয়ে বিষয়টি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আজ সকালে সরে জমিনে দেখতে আসবেন। পৌর মেয়র বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনকালে চাউল ও শুকনো খাবার সামগ্রীসহ ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন পৌর প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব, কাউন্সিলর মুজিবুল হক, কাউন্সিলর রেজাউল করিম, কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, পৌর সচিব মাসউদ মোর্শেদ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তিনি যার যার অবস্থানে থেকে বন্যা কবলিত মানুষের পাশ্বে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

লক্ষ্যারচরের বন্যা দূর্গত মানুষের ঘরে ঘরে চেয়ারম্যান কাইছারের রান্না করা খাবার : চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অধিকাংশ বাড়িই চালছোয়া পানি। রান্না করে খাবার তৈরীর মতো কোন সুব্যবস্থাও নেই পানি বন্ধি এসব পরিবারে। কিন্তু রান্না করা খাবার নিয়ে নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের হাতে রান্না করা খাবার বিতরণ করলেন লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার। পানি বন্ধি, বিপদের মুহুর্তে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান কাইছারের রান্না খাবার ও তাকে কাছে পেয়ে খুবই খুশি দূর্গত জনগণ। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে পুরো ইউনিয়নই নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি যতদিন কমবেনা, ততোদিন দূর্গত মানুষের পাশে থেকে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করে সহযোগিতা দিয়ে যাবেন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং সমাজের সকল বিত্তবানদের বর্না দূর্গত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

চকরিয়ার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন,ত্রাণ সামগ্রী ও রান্না খাবার বিতরণ করলেন আরিফুর রহমান মানিক : চকরিয়া উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, শুখনো ও রান্না করা খাবার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন চকরিয়া পেকুয়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট জামায়াত নেতা জননেতা আলহাজ¦ আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক। তিনি গতকাল কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, পৌরসভাসহ দূর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, এই মুহুর্তে সরকারের প্রয়োজন বন্যা কবলিত মানুষের পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে উপস্থিত হওয়া। কিন্তু জনগণ পানি বন্ধী অবস্থায় তাৎক্ষনিকভাবে উল্লেখযোগ্য কোন সহায়তা পাচ্ছেনা। তিনি দল,মতের উর্ধ্বে থেকে সকল রাজনৈতিকদল, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্তাদের বন্যা দূর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, যেসব পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত সময়ে খাস জমি বরাদ্ধ দিয়ে স্থায়ী বসতী নির্মাণ করে দেওয়ার আহবান জানান।

চকরিয়া-পেকুয়াকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষনার দাবি এমপি ও পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীর : চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় তিনদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। এ অবস্থার কারনে দুই উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এলাকার অন্তত ৪লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সারাদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার কারনে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় দুই উপজেলার হাজার হাজার পরিবার পানিতে ভাসছে। পাশাপাশি নদীর পানির গতিবেগ প্রবল হওয়ার কারনে চরম ঝুঁিকর মধ্যে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশির ভাগ বেড়িবাঁধ। ফলে দুর্গত এলাকার এসব বেড়িবাঁধ ও বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন পরির্দশন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান। পরির্দশনকালে উপস্থিত ছিলেন পাউবো’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমান আলী, শাখা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, তারেক বিন সগীর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এমপির ব্যক্তিগত সহকারি নাজিম উদ্দিন।

দুর্গত এলাকা পরির্দশন শেষে হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ সাংবাদিকদের বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। হাজার হাজার পরিবার পানিতে ভাসছে। বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ পরিবার রান্নাঘরে আগুন দিতে পারছেনা। এ অবস্থায় দুর্গত জনপদের মানুষ না খেয়ে অনাহারে মানবেতর দিনযাপন করছে। এমপি ইলিয়াছ জরুরী ভিত্তিতে দুর্গত মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষনার দাবি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান বলেন, তিনদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি প্রবাহের গতিবেগ প্রবল হওয়ায় দুই উপজেলার একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁিকর মধ্যে রয়েছে। তবে বন্যার পানি না নামা পর্যন্ত বেড়িবাঁেধর কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছেনা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষনিক নজরদারিতে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: