পাহাড়ী ঢলে লামা প্লাবিত, ডাইরিয়া ১ জনের মৃত্যু, বন্যা পরিস্থিতিরি আবারো অবনতি

এম.বশিরুল আলম, লামা,বান্দরবান : প্রবল বর্ষনের ফলে ঢলের পানিতে লামা পৌর শহরসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ৩-৫ ফুট তলিয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদ ভবনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর ও শহরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলো ১-৫ ফুট পানির নীচে তলিয়ে যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে নৌকা যোগে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বনিক। লামা-আলীকদম-চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী সড়কের কয়েকটি স্থান ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের উদ্যাগে আশ্রিত ও পানি বন্দিদের মাঝে জরুরী খাদ্য, ওষুধ, পানীয়জল সরবরাহ করে চলছেন। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের পানিবন্দি পরিবার ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উদ্যাগে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করে চলছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

পরপর কয়েক দফা বন্যার কারনে উপজেলার শত শত রিং টিউব ওয়েল ও পাইপ লাইন পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত এসব রিং টিউব ওয়েল পরিস্কার/সংস্কারা করা না হলে পানি বাহিত বিভিন্ন রোগ মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। ৪ জুলাই ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

২ জুলাই বিকাল থেকে অতিবর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ৩ জুলাই দুপুর হতে লামা উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে। ৪ জুলাই ভোর থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা পরিষদ ভবনসহ মূল শহর ঢুবে যায়। সোমবার বিকেল থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দুর্গতলোকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বনিক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ দুর্গত এলাকা-আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন। লামা পৌর সভার মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু, বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা জামাল, ফাতেমা পারুলসহ জনপ্রতিনিধিরা নৌকা যোগে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও পানিবন্দি লোকদের সহায়তা করেন। এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা দিলেও বুধবার দুপুর থেকে ধেয়ে আসা উজানের পানি আবারো নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পৌরসভার চাম্পাতলী গ্রামে লালাপ্রু মামম্রা (১৪) ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে এক প্রতিবন্দি কণ্যা শিশুর মৃত্যু হয়। অপরদিকে কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধস হলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মাটি ধসে ও পানির স্রোতে কৃষকের ফসল ও গ্রামীন রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ব্যপক ক্ষতি হয় বলে জানাগেছে। এছাড়া উপজেলা প্রায় সব কটি রিংটিউব ওয়েল ও পাইপ লাইন তলিয়ে যায়। এর ফলে নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা পরবর্তী পানি বাহিত বিভিন্ন রোগ ব্যধি থেকে রক্ষা পেতে পানির উৎসগুলো দ্রুত ওয়াস/ সংস্কার করার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: