চট্টগ্রামে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতেও প্রবাসীদের ভূমিকা!

ডেস্ক: দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে জম্মহার সবচেয়ে বেশি। জাতীয়ভাবে জম্মহার যেখানে ২.৩ শতাংশ, সেখানে চট্টগ্রামে এই হার ২.৫। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে যারা বিদেশে থাকেন, তাদের মধ্যে জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে অনীহা ও অনিয়মকেই এই বিভাগে জম্মহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। প্রবাসীদের মধ্যে অনিয়মিত জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ উদ্বিগ্ন বলেও জানান এর এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

১১ জুলাই মঙ্গলবার সারাদেশে একযোগে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ।

চট্টগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. উ খ্যে উইন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, যে কয়টি কারণে চট্টগ্রামে জম্মহার (টোটাল ফার্টিলিটি রেইট- টিএফআর) বেশি তার অন্যতম হচ্ছে প্রবাসীদের মধ্যে নিয়মিত জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের প্রবণতা খুবই কম। তাদের জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের এই প্রবণতা এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের অন্য এলাকার চেয়েও চট্টগ্রামে প্রবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামের জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশই প্রবাসী।

মোটামুটি আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকায় প্রবাসীরা পরিবার ছোট রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। প্রবাসীরা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করলেও, সেই সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। কারণ তারা দেশে এসে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না।

চট্টগ্রামের প্রবাসীদের মতোই সারাদেশের প্রবাসীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের চিত্র কম বেশি একই বলে উল্লেখ করেন ডা. উ খ্যে উইন।

তিনি জানান, জাতীয় জম্মহার ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হলে প্রবাসীদেরকে যথাযথ পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগে জম্মহার ২.৫ শতাংশ হলেও চট্টগ্রাম জেলায় কিন্তু এই হার ২.৪ শতাংশ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী জম্মনিয়ন্ত্রণে অন্য এলাকার চেয়েও পিছিয়ে আছে।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে জম্মহার বেশি হওয়ার অন্য কারণগুলো হচ্ছে দুর্গমতা ও শিক্ষার অভাব। চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে দুর্গম ফটিকছড়িতে সক্ষম দম্পতিদের মধ্যে জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হার সবচেয়ে কম, ৭০.৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে রাউজান উপজেলায় এই হার ৭৮.৮৬ শতাংশ।

ডা. উ খ্যে উইন জানান, ফটিকছড়ি উপজেলা প্রায় ৬শ’ বর্গকিলোমিটার, যার অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকা। এলাকা বড় হওয়ার কারণে এই উপজেলার কোনো কোনো ইউনিয়নে সেবা কেন্দ্রে এসে আবার বাড়ি ফিরে যেতে দম্পতিদের প্রায় পুরো দিনই কেটে যায়। যাতায়াত ব্যবস্থা কষ্টকর হওয়ায় সেখানে সেবাকেন্দ্রে মানুষ অপেক্ষাকৃত কম আসে।

অন্যদিকে সেখানে চা বাগানের শ্রমিক ও উপজাতী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ তেমন হয় না। একই অবস্থা উপকূলীয় দুর্গম উপজেলা সন্দ্বীপে। ফটিকছড়ির পরে সেখানে সবচেয়ে কম সংখ্যক মানুষ জম্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করছে।

উপকূলীয় এলাকার আরো একটি সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত যাতায়াত অবকাঠামোর অভাবে সেখানে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা বেশিদিন থাকে না। কোনো কোনো এলাকায় পৌঁছা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি ব্যয়বহুল।

অন্যদিকে রাউজান উপজেলায় যোগাযোগ কাঠামো তুলনামূলক ভালো এবং এই উপজেলায় শিক্ষার হারও বেশি। সেই কারণে দম্পতিদের মধ্যে জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের হারও বেশি।

চট্টগ্রামের আগে পার্বত্য বান্দরবান জেলায় দায়িত্ব পালন করেন ডা. উ খ্যে উইন। সেখানকার অভিজ্ঞতা বর্নণা করে তিনি বলেন, পার্বত্য এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের কখনো পৌঁছা সম্ভব হয়নি। বান্দরবান জেলায় চার লাখের কিছু বেশি মানুষ বসবাস করছে। সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কাছে কখনো পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছানো যায়নি।

তাছাড়া আন্তর্জাতিক সীমানা থাকার কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলায় রোহিঙ্গাসহ অন্য ভাসমান জনগোষ্ঠীর আনাগোনা বেশি। এই জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্যই জম্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে মোটেও ইচ্ছুক নয়। যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের সামগ্রিক জম্মহারে।

 পরিবর্তন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: