বোয়ালখালী-পটিয়ার হারগেজি খালের সীমান্ত সীমান্ত সাঁকোর বেহাল দশা, চরম বিপাকে দু’উপজেলার বাসিন্দারা

সনজয় সেন, পটিয়া সংবাদদাতা : র্বতমান সরকারের উন্নয়নে ছোঁয়া পৌঁছেনি পটিয়া – বোয়ালখালি সীমান্তে হারগেজী খালের বাশেঁর সাঁকোটির কাছে। পটিয়া- বোয়ালখালী খালের দুই পাড়ে সরকারি দলের দুই প্রভাবশালী এমপি। একজন পটিয়ার ও অন্যজন পার্শ্ববর্তী সংসদীয় আসন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার। দুইজনেই দ্বিতীয় বারের মতো তাদের এলাকায় এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের দুইজনের সীমান্তের মাঝখানে পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের বুড়া কালী বাড়ির পাশেই রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। সাঁকোর দক্ষিণ পাড়ে পটিয়া ও উত্তর পাড়ে বোয়ালখালী উপজেলা। এই দুই উপজেলার সীমান্তের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়ত করে থাকেন। শুধু তা নয় এলাকার লোকজন ছাড়াও স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাচীণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বুড়া কালী মন্দির রয়েছে। বিশেষ করে এই মন্দিরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ভক্তরা নড়বড়ে সাঁকো পাড় হয়ে শনি ও মঙ্গলবার পূজা ও মানত দিতে আসেন। বোয়ালখালী উপজেলার হারগেজি খালের উপর দুই এমপির সীমানায় এই বাঁশের সাঁকো। এটি সেতু করতে এলাকার লোকজন বোয়ালখালীর এমপি মাঈনুদ্দিন খান বাদল ও পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরীর কাছে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

সরেজিমন ঘুরে দেখা গেছে, পটিয়া-বোয়ালখালী সীমান্তে হারগেজি খালের উপর বুড়া কালী বাড়ির পাশে রয়েছে এই বাঁশের সাঁকো। প্রতি বছর কালী পূজার সময় দুই উপজেলা থেকে প্রায় দশ হাজার নারী-পুরুষ কালী বাড়িতে ভীড় করে। বুড়া কালী বাড়ির পক্ষ থেকে সাঁকোটি মেরামত করা হয়। ওই সাঁকো দিয়ে পুরো বছর পটিয়া ও বোয়ালখালী সীমান্তের লোকজন যাতায়ত করে থাকেন। শত বছর পূর্বে এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য হারগেজি খালের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বয়স্ক বাবুল সর্দার বলেন, খালের উপর দিয়ে এলাকার লোকজন চলাচলের জন্য ইটসুরকি গাথুনি দিয়ে সেতু নির্মাণ করে। যা বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ভেঙে গেলে তা বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচলের জন্য তৈরি করেন লোকজন। খালের দুই পাড়ের বেশির ভাগ লোক হিন্দু অধ্যুষিত। দক্ষিণ পাড়ে ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজ, বুড়া কালী মন্দির, ধলঘাট আরর্বান কো-অপারেটিভ ব্যাংক, প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রীতিলতা ট্রাস্ট, ধলঘাট ক্যাম্প বাজার ও উত্তর পাড়ে বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর ভুর্ষি প্রাইমারী স্কুল, নয়াহাট বাজার, আহ্লা দরবার শরীফ, মুকুন্দ রাম হাটসহ আশপাশের লোকজন এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করে থাকে। সাঁকোর পরিবর্তে সেতু নির্মাণ করা হবে রিক্সা, টেম্পু, কার, মাইক্রো নিয়ে চলাচল করা সম্ভব হবে। গত অর্থ বছরে বোয়ালখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অধীনে ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি সেতু নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের অবহেলায় তা এখনো শুরু হয়নি।

পটিয়া সীমান্তের ধলঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রনবীর ঘোষ টুটুন জানান, বুড়া কালী বাড়ির পাশের বাঁশের সাঁকোটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সেতু হিসেবে নির্মিত হলে দুই উপজেলার সীমান্তের লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে। প্রতি বছর কালী পূজার সময় দুই উপজেলার সীমান্তের মানুষ ভীড় করে। ধলঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ছালামত উল্লাহ মল্ল জানান, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এলাকার লোকজনের দাবির প্রেক্ষিতে এমপি সামশুল হক চৌধুরী ও বোয়ালখালীর এমপি মাঈনুদ্দিন খান বাদলের সহযোগিতায় হারগেজি খালের উপর সেতু নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে।

বোয়ালখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গত অর্থ বছরে ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের টেন্ডার হয়। চলতি বর্ষা মওসুমের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারেনি। বর্ষা মওসুম শেষে সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে কাজ শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: