বান্দরবানে আট বছরে ৩শ’১৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এলজিইডি

রিমন পালিত.বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবান পার্বত্য জেলা উন্নয়নে গত আট বছরে উপজেলা এডিপি, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় স্কুলসহ প্রায় ৩শত ১৫ কোটি ৪০লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। যা দ্রুত সমৃদ্ধ হচ্ছে পাহাড়ের জীবন বৈচিত্র। বর্তমান সরকারের বিগত ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছর হতে পাহাড়ী গ্রামীন সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, হাটবাজার ,রাস্তা ঘাট, ব্রীজ কালভার্ট .প্রাথমিক বিদ্যালয় র্নিমাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সুদৃষ্টির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বিভিন্ন উন্নয় প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সমৃদ্ধ হচ্ছে পাহাড়ের জীবন বৈচিত্র তারই সাথে সাথে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফল ভোগ করছে পার্বত্যবাসী।

এলজিইডি বান্দরবানে বিভিন্নয় উন্নয়ন কর্যক্রমের ফলে শহরের সাথে পাহাড়ের মধ্যে দুরত্ব কমে আসছে। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের ফলে বান্দরবান জেলার ৭ টি উপজেলায় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পর্যটনসহ সকল ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে। ফিরে এসেছে পাহাড়ী জনগনের জীবন যাত্রার আধুনিকতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। সেই সাথে সৃষ্টি হচ্ছে যোগ্য নেতৃত্বের । উন্নয়নের এই স্রোত ধারায় পাহাড়ী নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে তালে তাল মিলিয়ে উন্নতির দিকে। ফলে নারীর ক্ষমতায়নসহ অবসান ঘটছে নারী পুরুষ বৈষম্যের। কমছে বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথা,ইভটিজিং সহ নানা সামাজিক অনাচার।

এলডিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা জানান “বান্দরবান র্পাবত্য জেলায় বর্তমান সরকারের শুরু হতে এ পর্যন্ত বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলায় ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় ৩১৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বেশ কিছু উন্নয় প্রকল্প চলমান আছে। বিগত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে শুরু হওয়া এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প -২য় পর্যায় (রুরাল রোডস কম্পোনেন্ট) (ঈঐঞজউচ-ওও)- এর আওতায় বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা গোয়ালিয়াখোলা বাজার রাস্তার চেইনেজ ৭+১৫০মিঃ -এ প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০মিঃ ব্রীজের কাজ চলমান আছে।

এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও রুমা উপজেলায় আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় যথাক্রমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার -তুমব্রু রাস্তা; লামা উপজেলায় লামা সদর – রুপসীপাড়া রাস্তা ও বানিয়াছড়া -গজালিয়া রাস্তায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ২৭কিঃমিঃ রাস্তা এবং ৩৬৮মিঃ ব্রীজ ও কালভার্ট এর কাজ বাস্তবায়নাধীন আছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম – ২য় পর্যায় (জওউচঈঐঞ-২) প্রকল্পের আওতায় ৫৮ কোটি টাকায় বান্দরবান জেলার ৭ উপজেলায় ৩৭টি প্যাকেজে ৩৫কিঃমিঃ রাস্তা এবং ৫৮০মিঃ ব্রীজ কালভার্টের কাজ বাস্তবায়নাধীন আছে।

সংসদ সদস্যগণের জন্য নির্ধারিত অগ্রধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প (ওজওউচ-২) এর আওতায় জেলার সকল উপজেলায় প্রায় ৯কিঃমিঃ রাস্তা এবং ১১টি বাজার উন্নয়নের কাজ চলমান আছে। যার প্রকল্প ব্যয় ১১ কোটি টাকা। পিটিআই বিহীন ১২টি জেলা সদরে পিটিআই স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অত্র বান্দরবান জেলায় সদর উপজেলার রেইচা নামক স্থানে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পিটিআই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান আছে। বর্তমান ২০১৬-১৭ অর্থ বৎসরে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ কিঃমিঃ রাস্তা ও ৩টি কালভার্টের মেরামত ও পূর্নবাসন কাজ করা হয়েছে।

এছাড়াও অসহায় ও দুঃস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে জঁৎধষ ঊসঢ়ষড়ুসধহঃ ্ জড়ধফ গধরহঃবহধহপব চৎড়মৎবস -২ (জঊজগচ-২) প্রকল্প এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় ৪২০জন মহিলা ২২৬.৫৮লক্ষ টাকায় প্রতি ইউনিয়নে ২০কিমি: করে সর্বমোট ৭২০কি:মি: পাকা এবং মাটির রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। থানছি ও রুমা উপজেলায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার ৩৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮২৮.৬৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০টি ইউপি পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন নির্মান কাজ শেষ হয়েছে এবং ১৭১.৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টির কাজ চলমান আছে।এছাড়া ২০১১-২০১২ অর্থ বছর হতে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী (চঊউচ-৩) আওতায় প্রায় ৭৭৬৩.৭০ কোটি টাকায় বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলায় প্রকল্পভুক্ত মোট ১৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ৫৩টি বিদ্যালয় ভবন নির্মানের কাজ চলমান আছে।

২০১১-১২ অর্থ বছরে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারী নদীতে রাবার ড্যাম নির্মান প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সদর উপজেলার রাজভিলা ইউনিয়নের এলাকায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষকদের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে শীলক খালের উপরে ৫.৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮মি: দীর্ঘ রবার ড্যাম নির্মান করা হয়।রুমা ও থানচি উপজেলায় ১৪৩৭.৭৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের কাজ বাস্তবায়নাধীন আছে।

অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মান প্রকল্পের আওতায় ১৮লক্ষ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলার ২জন অসহায় মুক্তিযোদ্ধার বাস ভবন নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের গতিধারাকে আরো বেগবান করার জন্য এলজিইডি’র প্রকৌশলীগণ সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো নির্মানের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা আরো বলেন“ বর্তমান সরকারের আমলে বান্দরবান র্পাবত্য জেলা ৭ টি উপজেলায় উন্নয়নে এলজিইডি’র গ্রামীন সড়ক, হাটবাজার ও অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত সমৃদ্ধ হচ্ছে সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের জীবন বৈচিত্র । সম্প্রতি টানা বর্ষণ , বন্যা, ভূমিধ্বসের ফলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা বিভিন্ন উপজেলার বিশেষ বাজেটে ২০ লাক্ষ টাকা ব্যায়ে ১২ টি রাস্তাঘাট পূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: