আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমসি কলেজ হোস্টেলে ছাত্রলীগের হামলা-ভাংচুর

ডেস্ক: সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে ফের হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে বহিরাগত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এ ঘটনায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন কতৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে জরুরি বৈঠক শেষে এই নির্দেশ দেয়া হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ যুগান্তরকে জানান, উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করতে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ভোর রাতে ওই কলেজের মুরারী চাঁদ নামের হোস্টেলে অতর্কিত এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অতর্কিত এই হামলা শুরু হলে ৭টি ব্লকের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে বলে জানা যায়।

এর আগে ২০১২ সালের ৮ জুলাই ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের জের ধরে এই হোস্টেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগতরা। সেই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারের অনুসারী হোসেইন গ্রুপ ও টিটু গ্রুপের মধ্যে বুধবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাতাহাতি হয়। রাতে হোস্টেলে দু’গ্রুপ অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়।

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় টিটুর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন ছাত্রলীগ ক্যাডার অতর্কিত হামলা চালায় কলেজ হোস্টেলে। এসময় হোস্টেলের ৪ ও ৫ নম্বর ব্লকের শতাধিক কক্ষের দরজা জানালা ভাংচুর করে। বেশ কয়েকটি কক্ষও ভাংচুর চালায় তারা। প্রায় একঘণ্টা ভাংচুরের পর তারা চলে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ এবং কলেজ প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায়। এ নিয়ে হোসেইন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জিদান আল মুসা যুগান্তরকে জানান, বুধবার রাত থেকেই এই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। রাতে পুলিশি তৎপরতা থাকায় চলে গেলেও বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ফের এসে তারা এ ঘটনা ঘটায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি এখন শান্ত। ভাংচুরের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে ২০১২ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর জ্বালিয়ে দেয়া হয় শত বছরের পুরোনো মুরারী চাঁদ( এমসি) কলেজের হোস্টেল। এ ঘটানায় তদন্তে কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভিডিও ফুটেজের ওপর ভর করে তৈরি করা হয়েছিল অপরাধীদের তালিকা।

তালিকায় নাম ছিল দেবাংশু দাস মিঠু, পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আলমগীর, বাবলা ও জ্যোতির্ময় দাসের নাম। এ তালিকার অধিকাংশই সিলেটের ছাত্রলীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতা। বাকিরা তাদের অনুসারী। ঘটনার পর ছাত্রাবাসের হল সুপার বশির আহমদ বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন এসএমপির শাহপরান (রহ.) থানার ওসি এনামুল মনোয়ার।

যৌথভাবে তদারকি করেন এসএমপির উপপুলিশ কমিশনার আমিনুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার শংকর কুমার দাস। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসএমপির শাহপরান (রহ.) থানার পরবর্তী ওসি মো. লিয়াকত আলী। তদন্ত চলাকালে আরও দুটি মামলা দায়ের হয় আদালতে। এর মধ্যে দরখাস্ত মামলা ৪৭/১২ এর বাদী গোয়াইনঘাটের মো. আতিকুর রহমান ও ৫২/১২ মামলার বাদী মৌলভীবাজারের মো. জহিরুল ইসলাম। এ দুটি পৃথক অভিযোগও হোস্টেল সুপার বশির আহমদের দায়ের করা মামলার সঙ্গে নথিভুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: