জঙ্গিনেতা সোহেলকে জেরা করতে ঢাকা আসছে এনআইএ

ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজ ওরফে ‘হাতকাটা নাসিরুল্লা’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত সোহেল মাহফুজ বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল আসামি। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রথম জেএমবির সদস্য, যিনি বোমা বানানোর তালিম দেন। এর সূত্র ধরে এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঢাকা আসছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) গোয়েন্দা সদস্যরা।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত কলকাতা২৪ এর এক সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল আসামি সোহেল মাহফুজকে এবার হাতের নাগালে পাচ্ছেন দেশটির এনআইএ গোয়েন্দারা৷ ঢাকায় পৌঁছে তারা ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেডভুক্ত এ আসামিকে জেরা করবেন। এমনকি সোহেল মাহফুজকে ভারতে নিতে যেতে আবেদনও করবে এনআইএ।

নব্য জেএমবির মিলিটারি শাখার প্রধান সোহেল মাহফুজকে সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি আম বাগান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও বাংলাদেশের রাজশাহী সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পালিয়ে ছিলেন তিনি।

এনআইএর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে বেশ সক্রিয় জেএমবি জঙ্গিরা। পশ্চিমবঙ্গের ভূমি ব্যবহার করে বাংলাদেশে সরকার উৎখাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছিল জেএমবি। ভারতের মাটিতে বসবাস করে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তৎপরতা নিয়েও এনআইএ জানতে চাইবে।

২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের অন্যতম আসামি সোহেল মাহফুজের মাথার দাম ১০ লাখ টাকা ধার্য করেছিল এনআইএ। তিনি এক সময় জেএমবি সংগঠনের ভারতীয় শাখার আমির (প্রধান) ছিলেন। পরে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে দ্রুত সংগঠনের শীর্ষ নেতা বনে যান।

প্রকাশিত সংবাদে আরও বলা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের তিন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন। এমনকি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির তৎপরতা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এখন এনআইএর পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের এসটিএফের জেরার মুখে পড়তে পারেন হাতকাটা নাসিরুল্লা।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে বাংলাদেশ পুলিশ সূত্র বলছে, ২০০৬ সালে সোহেল মাহফুজ ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর আবার বাংলাদেশে চলে আসেন।

ভারতের বর্ধমানের খগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে সোহেল মাহফুজ জড়িত থাকার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে ডিআইজি জানান, এ বিষয়টি তারা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সোহেল মাহফুজসহ জেএমবির অন্তত দুই ডজন নেতা ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইর এর টার্গেটে। তাকে ভারতেও খোঁজা হচ্ছিল।’

গুলশানের হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তৈরি। ইমপ্রোভাইসড হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির মূল কারিগর ছিলেন সোহেল মাহফুজ। এ ছাড়া নব্য জেএমবির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ময়মনসিংহ আদালতে নেওয়ার পথে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা সালাউদ্দিন ও সালেহীনসহ তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সোহেল মাহফুজ মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: