বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনের উন্নয়ন কাজে রডের সাথে বাঁশ

বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনের উন্নয়ন কাজে এবার রডের সাথে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। দেয়াল মজবুত করতেই বাঁশের ব্যবহার বলে উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানালেও অভিযোগ উঠার পর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণের কাজ করা হচ্ছে। কাজটিতে রডের সাথে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নির্মাণ কাজের শ্রমিকরা দেয়াল ঢালাই দেওয়ার আগে রডের সাথে বাঁশের লম্বা ফালি বেধে দিচ্ছে। সাংবাদিকরা ছবি তোলার পর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বালাঘাটায় বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণ কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায় বিজ্ঞানাগারের দেয়াল নির্মাণে রডের সাথে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়। বাঁশের বড় লম্বা ফালি রডের পাশাপাশি একসাথে তার দিয়ে বেঁধে দিয়ে কাজ করছিল নির্মাণ শ্রমিকরা। পুরো দেয়ালটিতেই বাঁশের ব্যবহার করা হয়।

কলেজের শিক্ষকরা জানান, দেয়ালে বাঁশের ব্যবহার বন্ধ করতে বার বার বলা হলেও ঠিকাদার তাদের কোনো কথাই শুনেননি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার মত করে রয়েছে।

নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি আলী হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সিমেন্ট ধরে রাখতে ও দেয়াল মজবুত করতে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা বাঁশ খুলে ফেলার জন্য তাদের নির্দেশ দিলে পরে তা খুলে ফেলা হয়।

এদিকে কলেজের উন্নয়ন কাজে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষকরা অসস্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ বড়ুয়া জানান, কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কাজ করা উচিত নয়।

এ বিষয়ে উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নূর হোসেনের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, আমরা ঠিকাদারকে বাঁশ ব্যবহার করতে বলিনি। এটি হয়ত শ্রমিকরা না বুঝে করেছে। তবে বাঁশ খুলে ফেলার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: