শুধু সেলিব্রেটি নয়, আমার সন্তানকেও বাঁচান !!!

মরণঘাঁতি ডিটি রোড: পশ্চিম মাদারবাড়ী পানির টাংকি এলাকার দৃশ্য

বাংলাদেশে কোন ধরনের ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নেয়া হয়না কোন ব্যাপারেই। তাও ছোটখাট ঘটনা ঘটলে চলবে না হতে হবে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। তখন টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। তড়িঘড়ি করে নেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কোন কোন ক্ষেত্রে সংশোধন করা হয় আইনী প্রক্রিয়াও।

আবার যে, প্রতিনিয়ত দেশে দূর্ঘটনা, প্রাণহানি, হতাহতের ঘটনা ঘটছে না তাও নয়। আর ঘটনা ঘটার পরও সকল ঘটনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমনটিও নয়। দু’ধরনের ঘটনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। এক, ঘটনার ভয়াবহতা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যখন অনেক বেশী তখন। দুই, যখন ঘটনার শিকার কোন সেলিব্রেটি তখন। সেলিব্রেটিদেরও ধরণ আবার ভিন্ন ভিন্ন। সেটা হতে হবে প্রগতিশীল ঘরনার শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাংবাদিক, নাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, বাম রাজনীতিক কিংবা সরকারের ঘনিষ্ঠজন তবেই দৃশ্যমান এ্যাকশন পরিলক্ষিত হবে। সাধারণ আমজনতা ২/৪টা খরচ হয়ে গেলেও কিন্তু তেমন কারো হুঁশ হয়না।

মূল কথায় আসি। আমি একজন পিতা, অভিভাবক। আমার ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। আমার বাচ্চা দু’টি প্রতিনিয়ত খুব কাছ থেকে মৃত্যুর হাতছানি দেখছে। কিভাবে, কোথায়, কখন !!!

মরণঘাঁতি ডিটি রোড: পশ্চিম মাদারবাড়ী পানির টাংকি এলাকার দৃশ্য

চট্টগ্রাম শহরের বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে যে সড়কটি পূর্বদিকে সোজা চলে গেছে তার নাম ডি.টি.রোড। যেটা ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের দখলে চলে গেছে অনেক আগেই। এর আগেও বহুবার সড়ক দখল করে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের ব্যবসাকারীদের নিয়ে অনেক লিখেছি কিছুই হয়না। এ সড়কের মানুষ তার জীবনটা হাতে নিয়ে চলাফেরা করে প্রতিনিয়ত। কারণ দু’পাশে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান রাখার পর অবশিষ্ট যেটুকুন পথ থাকে তাতে চলাফেরা করার সময় খুব ভয়ে ভয়ে পিছনের দিকে খেয়াল রেখে চলতে হয়। আরেকটা গাড়ী আসলে খালি জায়গা পাওয়া না গেলে তাকে সাইড দেয়া যায়না। সে সড়কেই আমার বসবাস।

পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকায়। মূল সড়কের পাশেই। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামীলীগ নেতা বাহাদুর সাহেবের বাড়ীর একটু পূর্বেই। আমার বেলকনীতে দাঁড়ালে সড়কে চলমান সব গাড়ীই দেখা যায়। আমার বাচ্চা দুটো পায় সময় বেলকনীতে দাঁড়িয়ে গাড়ীর আসা যাওয়া দেখে।

সম্প্রতি গত ১সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে আমার বাসার সামনের বরাবর সড়কটি ভেঙ্গে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সে ভাঙ্গা অংশে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। কেউ যদিও এখনো মারা যায়নি তবে বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে ভাঙা অংশটি। বাচ্চারা প্রতিদিন দূর্ঘটনা দেখে ভয়ে আঁতকে উঠছেন। রাতে যখন ঘুমাতে যায় তখন ঐ ভাঙা অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন পাড়ি দেয়ার সময় বিকট শব্দ হচ্ছে। আমার বাচ্চারা এমন বিকট শব্দে ঘুম থেকে ভয়ে ওঠে গিয়ে বিছানায় বসে যাচ্ছে। একেকটা গাড়ী যখন ঐ গর্তে পড়ে তখন যে শব্দ হয় তা নিজের কানে না শুনলে বিশ্বাসযোগ্য মনে হবেনা। প্রতিনিয়ত ঐ ভাঙ্গা অংশের জন্য সড়কে যানজট লেগেই রয়েছে নিয়মিত। তারপরও কারো টনক নড়ছেনা। এটা ঠিক করার দায়িত্ব কার আমি জানি না। তবে আমি আমার বাচ্চাদের নির্ভয়ে রাতের ঘুমের নিশ্চয়তা চাই। প্লিজ, আপনারা ব্যবস্থা করুন।

নতুবা, প্রিয় দেশবাসী আমাকে ঠিক এ জায়গায় একটি লাশ দিন, একজন খ্যাতিমানের লাশ দিন। তবেই দেশজুড়ে আলোচিত হবে, ব্যবস্থা নেয়া হবে, গাফিলতির শাস্তি হবে, আরো কতকিছু হবে। আমি স্বেচ্ছায় গিয়ে মরতে পারি কিন্তু তাতেও যে, তিনাদের বোধদয় ঘটবে না। কারণ আমি পাবলিক, আমি আমজনতা।
একজন আমজনতার সন্তানদের নির্ঘুম রাতের করুণ দৃশ্য কেবল আমজনতাই বোঝে। যেসব বাচ্চাদের মনে সড়ক সর্ম্পকে ভয় ঢুকে যাচ্ছে একসময় তা তাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়বে পুরো জাতির জন্য। ধীরে ধীরে আমরা অস্বাভাবিক ও অসুস্থ প্রজন্ম তৈরী করছি নিজেদের অজান্তেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: